বেতনের টাকা কম দেওয়ার প্রতিবাদ, ৩ শিক্ষকের ওপর হামলা
বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২০ | ১০:২৯
সিলেটের বিশ্বনাথে বেতনের টাকা কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় মার খেয়ে হাসপাতালে যেতে হলো বয়স্কদের নিয়ে পরিচালিত গণশিক্ষার তিন শিক্ষককে। আহত অবস্থায় তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন- প্রকল্পের শিক্ষক ও উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের ধলিপাড়া গ্রামের সামসুদ্দিন, একই গ্রামের রাসেল আহমদ, রহমান নগর গ্রামের মিজানুর রহমান টিটু। রোববার বিকেলে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
ওই তিন শিক্ষক জানান, টাকা কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালান উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার পরাগ আচার্য্য। ঘটনার পর পরাগ আচার্য্য ও প্রকল্পের তিন সুপারভাইজারকে আটক করে পুলিশ। আটক অপর তিনজন হলেন- দশঘর ইউনিয়নের সুপারভাইজার সুমন মিয়া, খাজাঞ্চি ইউনিয়নের আজিজুর রহমান ও লামাকাজি ইউনিয়নের সুপারভাইজার ফারুক মিয়া।
তারা আরও জানান, বিশ্বনাথে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় বয়স্কদের নিয়ে পরিচালিত গণশিক্ষা কার্যক্রমে মাসিক ২ হাজার ৪০০ টাকা বেতনে উপজেলায় প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষক কাজ করছেন। রোববার একসঙ্গে তিন মাসের বেতন ৭ হাজার ২০০ টাকা নিতে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা-ব্যুরো অফিসে জড়ো হন রামপাশা ইউনিয়নের ৫২ জন শিক্ষক। বেতন সিটে সই নিয়ে ৭ হাজার ২০০ টাকার পরিবর্তে পুরুষ শিক্ষকদের ৫ হাজার এবং নারী শিক্ষকদের ৪ হাজার টাকা করে দেন উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার পরাগ আচার্য্য। টাকা কম পেয়ে শিক্ষকরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন। এ সময় ইউনয়িন সুপারভাইজার দবির মিয়া, খলিলুর রহমান, সাইদুর রহমান, জাহানুর রহমান, সুমন মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আজিজুর রহমান, ফারুক মিয়াসহ বহিরাগত ক্যাডারদের ডেকে এনে শিক্ষকদের ওপর হামলা করান পরাগ আচার্য্য। উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়ার হস্তক্ষেপে পরিবেশ শান্ত হয়। পরে তিনি পুলিশে খবর দিলে উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসারসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।
বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, 'উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের কথায় তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়। প্রোগ্রাম অফিসার, সুপারভাইজার ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি থানাতেই নিস্পত্তি করা হয়েছে।'
- বিষয় :
- শিক্ষকের ওপর হামলা
- বিশ্বনাথ