মেঘনায় বিলীন হচ্ছে কমলনগরের বিস্তীর্ণ জনপদ
কমলনগরে মেঘনায় বিলীন হচ্ছে রাস্তাঘাট
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২০ | ০০:২১ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২০ | ০০:২৫
বর্ষার শুরুতেই লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার কাদিরপণ্ডিতের হাট এলাকায় মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ।
ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, ডিজিটাল ডাকঘর, মসজিদ ও কাদিরপণ্ডিতের হাট এলাকার বাজার। ভাঙন প্রতিরোধে এখনই উদ্যোগ নেওয়া না হলে চলতি মৌসুমে এগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভাঙনের তীব্রতা কমাতে স্থায়ী বাঁধ না হলেও আপদকালীন বরাদ্দের আওতায় জিও ব্যাগের বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ভাঙনের মুখে পড়ে কাদিরপণ্ডিতের হাট এলাকার বাজারটি প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে চরজগবন্ধু এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা নতুন করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে করালগ্রাসী মেঘনা। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে মেঘনা নদীর ভাঙন এখন বাজারের ৩০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। বাজারের পাশেই রয়েছে চরজগবন্ধু এটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবু তাহের কমিউনিটি ক্লিনিক ও চরজগবন্ধু ডিজিটাল ডাকঘরসহ চারটি মসজিদ। ভাঙনের তীব্রতায় সেই সব প্রতিষ্ঠানগুলোও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।
স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর থেকে এলাকাটিতে ভাঙনের তাণ্ডব চলছে। ভাঙনের মুখে পড়ে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিনের ভাঙনে অন্তত ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে এখন ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মেঘনার ভাঙন বাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।
কাদিরপণ্ডিতেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন জানান, এক সময়ে কাদিরপণ্ডিতেরহাট বাজার উপজেলার মধ্যে অন্যতম একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। চার বছর আগে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটিসহ ওই বাজারের কয়েকশ’ দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে তারা বর্তামন জায়গায় বাজারটি স্থানান্তর করেন। কিন্তু এখন পুনরায় বাজারটি ভাঙনের হুমকির মুখে পড়ায় তিনিসহ অপর ব্যবসায়ীরা খুবই আতঙ্কে রয়েছেন।
চরজগবন্ধু এটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজাদ উদ্দিন জানান, মেঘনার ভাঙন বিদ্যালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা না গেলে কয়েকশ’ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে যাবে।
সাহেবেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের জানান, গত ছয় মাসে মেঘনার ভাঙনে কাদিরপণ্ডিতেরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকার ৪০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন শতাধিক পরিবার। ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বাজারসহ পুরো এলাকাটি এখন হুমকির মুখে। যে কারণে এলাকাটি রক্ষায় এ মুহূর্তে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব না হলেও ভাঙনের তীব্রতা কমাতে আপদকালীন বরাদ্দের আওতায় জিও ব্যাগের বাঁধ নির্মাণের দাবি করেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ জানান, মেঘনার ভাঙনের তীব্রতা ঠেকাতে আপদকালীন বরাদ্দের আওতায় কমলনগর উপজেলার তিনটি স্পটে জিও টিউব ব্যাগে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। কাদিরপণ্ডিতের হাট এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে একইভাবে বাঁধ নির্মাণের জন্য ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সেখানে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান জানান, মেঘনার ভাঙনরোধে কমলনগর ও রামগতি উপজেলার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের নতুন ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড বর্তমানে ভাঙন ঠেকাতে আপদকালীন বরাদ্দে কমলনগর উপজেলার পাঁচটি স্পটে জিও টিউব ব্যাগে বাঁধ নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। কাদিরপণ্ডিতেরহাট এলাকায় জিও টিউব ব্যাগে বাঁধ নির্মাণের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- নদীভাঙন
- মেঘনা
- কমলনগর
- চট্টগ্রাম
- লক্ষ্মীপুর