কলেজছাত্র ফাহিম হত্যা: ১২ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি মূল আসামি
ফাহিম বয়াতি
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৫ | ১৯:০৭
পটুয়াখালীর বাউফলে ফাহিম বয়াতি হত্যার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বাউফলের নওমালার ভাংরা গ্রামের জাকির হোসেন বয়াতি দিনমজুরি করে সংসার চালান। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। বড় ছেলে ফাহিম বয়াতি নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিলেন। মেজ ছেলে আবু নাঈম খুলনায় একটি কারখানায় কাজ করেন। ছোট ছেলে নাজিম মাদ্রাসার ছাত্র। ফাহিম পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কাজে সহায়তা করতেন। মূল আসামি শাকিল ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বালুর মাঠে থাকে। সে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
এজাহার থেকে জানা গেছে, ১ জুলাই বিকেলে ফাহিম বাড়ির জন্য নিত্যপণ্য কিনতে চিংগড়িয়া গ্রামের ধলুফকির হাটে যান। এ সময় একই গ্রামের শাকিল, তার চাচা সোহাগ মীর ও শানু মীর তাঁকে ধাওয়া দেয়। আত্মরক্ষার্থে ফাহিম দৌড়ে সেতুর কাছে পৌঁছলে শাকিলের চাচা তাঁকে ধরে ফেলে। এক পর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে সড়কের ওপর ফেলে দেয়। এ সময় শাকিল হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাঁর পেটে আঘাত করে। ফাহিমের বাবা জাকির বয়াতি ছেলেকে রক্ষা করতে এগিলে গেলে শানু মীর তাঁকেও ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত ফাহিম ও তাঁর বাবা জাকির হোসেন বয়াতিকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ধলুফকিরের উত্তেজিত জনতা শাকিল মীরের চাচা শানু মীরকে ধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। অন্যরা পালিয়ে যায়। গত ২ জুলাই ফাহিমের মা রোখসনা বেগম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে দশমিনা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এখনও মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি।
প্রতক্ষ্যদর্শী কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন ভাংরা খালে মাছ ধরার জাল ফেলে সবে সেতুর ওপর উঠেছি। দক্ষিণ পাশে তাকিয়ে দেখি, ফাহিমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় শানু মীর। পরে তার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে শাকিলসহ আরও দু’জন আসে। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে দেখি ফাহিম অচেতন পড়ে আছে। চারপাশে রক্তের বন্যা দেখে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
ফাহিমের মা বলেন, মোর ছেলেডা শাকিলরে কইছে. হাবিজাবি খাও কেন? গন্ধে রাস্তাঘাটে চলতে পারি না। এ অপরাধে জোট বাইন্ধা বাবারে কোপাইয়া মারছে। স্বামীরেও কোপাইছে। হে হাসপাতালে। ১২ দিন হইছে মোর ছেলেডারে খুন করছে। পুলিশ আসামিগো এ্যাহনো ধরে নাই। আমি পোলার খুনের বিচার চাই।
ফাহিমের চাচা মোস্তফা বয়াতি জানান, শানু মীর, শাকিল আমার ভাতিজাকে হত্যা করেছে। ভাই জাকির এখনও হাসপাতালে। ১২ দিনেও মূল আসামি গ্রেপ্তার হয় নাই। আসামিরা সন্ত্রাসী। আমরা পরিবার নিয়ে ভয়ে আছি– আবার যদি হামলা করে!
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলিম বলেন, স্থানীয় লোকজন গণধোলাই দিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে চিকিৎসা শেষে রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
