ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মেঘালয় চা বাগান ইজারা ইস্যুতে বৈঠক করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন, হয়নি সুরাহা

মেঘালয় চা বাগান ইজারা ইস্যুতে বৈঠক করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন, হয়নি সুরাহা
×

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মেঘালয় চা বাগানের ইজারা (বন্দোবস্ত) বাতিল ইস্যু নিয়ে বুধবার বিকেলে বসবাসকারীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন জেলা প্রশাসক। ছবি: সমকাল

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | ১৭:৩৫

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মেঘালয় চা বাগানের ইজারা (বন্দোবস্ত) বাতিল ইস্যু নিয়ে বুধবার বিকেলে বসবাসকারীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন জেলা প্রশাসক। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবরে বন্দোবস্ত বাতিল সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে এ বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক শের মোহাম্মাদ মাহবুব মুরাদ। বৈঠকে উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত বাগান এলাকার পাঁচটি মৌজার গ্রামবাসীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে এলাকাবাসী বাগানের বন্দোবস্ত বাতিল দাবি করে তাদের মতামত তুলে ধরেন। তবে জেলা প্রশাসক বন্দোবস্ত বাতিল করা যাবে না উল্লেখ করে কিছু জায়গা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি জানান। কিন্তু জেলা প্রশাসকের এ মতামতের প্রেক্ষিতে উপস্থিত এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সকলের মতামত নিয়ে তারা বিষয়টি জানাবেন। তারা বন্দোবস্ত বাতিল ছাড়া কিছু ভাবছেন না। 

জানা গেছে, দি মেঘালয় টি এস্টেট অ্যান্ড খোদেজা বহুমুখী ফার্মের নামে ২০১১ সালে চা বাগানের জন্য ১ হাজার ২৯২ একর জায়গা বন্দোবস্ত দেন জেলা প্রশাসক। সেখানকার ভূমি এলাকার অংশ বিশেষ চা রোপণ করা হলে ৯৫ ভাগ ভূমিই খালি। সেইসব ভূমির মধ্যে টিলা, পতিত, পাহাড়, ডোবাসহ বিভিন্ন শ্রেণির জায়গা রয়েছে। সম্প্রতি বাগান কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ প্রস্তুতি শুরু করলে বাসিন্দারা রুখে দাঁড়ান। তারা আন্দোলন শুরু করেন। মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন দেন। আবেদনে তারা ৩ হাজারেও বেশি পরিবার ও ১৫ হাজার লোক সেখানে বসবাস করছেন উল্লেখ করে জানান বসবাসকারীদের অনেকে অস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়েছেন। সবাইকে স্থায়ী ভূমি বন্দোবস্তের দাবি করেন তারা।

সভায় উপস্থিত জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন বিল্লাল সমকালকে জানান, বন্দোবস্ত বাতিল ছাড়া তারা বিকল্প কিছু ভাবছেন না। স্থায়ীভাবে ভূমি বন্দোবস্ত দিতে হবে।

তিনি জানান, গত ২৫ মে উপদেষ্টা বরাবর বাগানের ইজারা বাতিল ও বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে বন্দোবস্তের দাবিতে আবেদন করেন। সেই আবদেনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বুধবার তাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা জানিয়েছেন কয়েক পুরুষ ধরে সেখানের জমিতে বসবাস করেছেন। অকৃষি খাস ভূমিতে বসত গৃহ নির্মাণ, বনজ ও ফলজ বৃক্ষাদি রোপণ করে ভোগাধিকার করে আসছেন। ভুল তথ্য দিয়ে সরকার থেকে বাগান করার নামে সেখানকার ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। মেঘালয় টি এস্টেট অ্যান্ড খোদেজা বহুমুখী ফার্ম লিমিটেডের ইজারা বাতিলের দাবি করেন বৈঠকে উপস্থিত গ্রামবাসী। 

বৈঠকে জেলা প্রশাসক ও বন্দোবস্ত গ্রহীতা নাসিমা সুলতানা আহমদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান করিম, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম, চারিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশীদ, চারিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মজিদ, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হাফিজ জালাল উদ্দিন, সামছুজ্জামান প্রমুখ।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদ জানান, বাগানের বন্দোবস্ত বাতিল করা যাবে না। সেখানকার লোকদের বলা হয়েছে কিছু জায়গা ছাড় দিতে পারেন। আর সেজন্য একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। তারা ১৫ দিনের সময় নিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×