আমুর কর্মচারীর বিল উত্তোলনের তদবিরে গিয়ে বিতণ্ডা, মাঝপথে সংবাদ সম্মেলন ছাড়লেন দুই সমন্বয়ক
ছবি-সংগৃহীত
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:২১
বরিশালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে সংবাদ সম্মেলন শেষ না করেই চলে গেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতা। রোববার বরিশাল প্রেস ক্লাবে এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি কাজের তিন কোটি টাকার বিল উত্তোলনের তদবিরে গিয়ে বিতণ্ডায় জড়ানো নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আমির হোসেন আমুর কম্পিউটার অপারেটর শাওন খান বাদল কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে ঠিকাদারি করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের করা সেতু ও সড়ক নির্মাণ কাজের তিন কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। সেই টাকা তুলতে গত বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি এলজিইডিতে গিয়েছিলেন বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম (২৪) এবং সদস্য নগরীর বেসরকারি গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মেহেদি হাসান (২৫)। সেখানে বিএনপিপন্থি ঠিকাদারদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ালে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়। পরে দু’পক্ষের সমঝোতার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, ২৭ জুলাই এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ দিয়েছেন। সেটির তদন্ত কমিটির অগ্রগতি জানতে বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। তখন সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তৌহিদ হোসেনসহ সহযোগীরা তাদের চাঁদাবাজ বলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেন। তখন হাতাহাতি হলে পুলিশ থানায় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে।
সিরাজুল ও মেহেদির লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। জবাবে তারা এলোমেলো উত্তর দিয়ে দ্রুত সভাকক্ষ ছেড়ে চলে যান।
সূত্র জানায়, বাদল কনস্ট্রাকশনের বিল ছাড়ের জন্য তারা নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলীকে গত দুই মাস ধরে চাপ দিচ্ছিলেন। পরে তারা বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে যান।
নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর বলেন, তিন কোটি টাকার বিল ছাড় করতে দুই ছাত্রের চাপ দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ঝালকাঠি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এলজিইডিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্রদল-যুবদলের কয়েকজনের সঙ্গে বাগ্বিতাণ্ডায় জড়ান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দুই ছাত্রকে থানায় আনে। পরে উভয় পক্ষ থানায় সমঝোতা করেছে।
