ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ঘাটাইলে সার আছে, সার নেই

ঘাটাইলে সার আছে, সার নেই
×

.

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল 

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | ০১:১১

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কি পর্যাপ্ত সার আছে? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকার করলেন সারের সংকট আছে। তবে কৃষি কর্মকর্তা জানালেন কোনো ঘাটতি নেই।
উপজেলার কৃষকরা বলছেন, একজন ডিলার সারের যে বরাদ্দ পান তাতে একজন কৃষকের এক মাসের প্রয়োজন মেটে না। আবার ডিলারদের কাছে যে পরিমাণ সার রয়েছে তার বাড়তি দাম হাঁকা হচ্ছে। বিশেষ করে টিএসপি সার বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে।
ডিলারদের ইচ্ছামতো বাড়তি টাকা আদায় আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার তদারকি না থাকায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা। তারা বলছেন, ডিলাররা বরাদ্দ কম পাওয়ায় উপজেলায় সারের ঘাটতি আছে। বাড়তি দাম দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না। বাজারে প্রশাসনের কোনো তদারকিও নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডিলার জানান, যা বরাদ্দ আসে তা মাসের শুরুতেই শেষ হয়ে যায়। কৃষক বাঁচাতে হলে অবশ্যই সারের বরাদ্দ বাড়তে হবে। তবে বাড়তি দাম নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তাঁরা। 
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ সমকালকে বলেন, উপজেলায় সারের সংকট রয়েছে। বিষয়টি কৃষকদের মাধ্যমে সম্প্রতি আমি জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ বাড়তি দামে সার বিক্রি করলে তার কিরুদ্ধে আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। আমরা প্রতিনিয়ত সারের বাজার মনিটরিং করছি। কৃষকরা বেশি দাম দিয়ে সার কিনেছেন এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
ঘাটাইল উপজেলার পূর্বাঞ্চল টিলা দ্বারা গঠিত। স্থানীয়দের কাছে পরিচিত পাহাড়ী এলাকা হিসেবে। ধলাপাড়া, সাগরদীঘি, লক্ষিন্দর, রসুলপুর ও সন্ধানপুর ইউনিয়নগুলোর মাটির রঙ লাল। ব্যাপকভাবে চাষ হয় কলা, ড্রাগন, পেঁপেঁ এবং হলুদ। এ বছর যোগ হয়েছে আখের আবাদ। এ ধরনের ফসল ফলানোর জন্য এলাকাগুলোতে সারের চাহিদা রয়েছে অনেক। অন্যান্য সারের মধ্যে টিএসপি সারের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। কৃষকের অভিযোগ এই সার সরকার নির্ধারিত দামে তারা পাচ্ছেন না। আর ডিলাররা বিক্রি করছেন দ্বিগুন দামে। 
সরকার নির্ধারিত মূল্য হচ্ছে- ইউরিয়া এবং টিএসপি ৫০ কেজির প্রতি বস্তা এক হাজার ৩৫০ টাকা, এমওপি এক হাজার এবং ডিএপি এক হাজার ৫০ টাকা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই দামে সার পান না তারা। 
লক্ষিন্দর ইউনিয়নের কৃষক বাদল মিয়া কলা চাষ করেছেন ৯৩ বিঘা, ড্রাগন ৬৪ বিঘা, আখ ১৭ বিঘা ও পেঁপে চাষ করেছেন ১১ বিঘা জমিতে। মোট ১৮৫ বিঘা জমিতে প্রতি মাসে তাঁর সারের প্রয়োজন ৫০ কেজির টিএসপি ১৫০, এমওপি ১০০ এবং ইউরিয়া ৫০ বস্তার। 
উপজেলায় বিসিআইসি সারের ডিলারের সংখ্যা ১৮ জন এবং বিএডিসি ডিলার রয়েছে ২০ জন। সরকারিভাবে ডিলার প্রতি বিভিন্ন ধরনের সারের যে বণ্টন করা হয় তার পরিমাণ প্রায় একই। ডিলারদের দেওয়া তথ্যমতে গত জুলাই মাসে প্রতিজন ডিলার ইউরিয়া সার পেয়েছিলেন ৪৪০ বস্তা, টিএসপি ১০১, এমওপি ৫০ এবং ডিএপি ৭৯ বস্তা। 
বাদল মিয়া বলেন, ঘাটাইলে সার বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। তবুও পাওয়া যাচ্ছে না। গতমাসে নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের এবং টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে সার সংগ্রহ করে জমিতে দিয়েছেন তিনি।
সাগরদীঘির নাসির সিকদার কলা চাষ করেছেন ৫১ বিঘা, হলুদ ৯ বিঘা এবং বেগুন চাষ করেছেন ৫ বিঘা জমিতে। তিনি বলেন, সার পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিপাকে আছি। সারের এমন সংকট থাকলে কৃষকরা চাষাবাদ করা বন্ধ করে দিবে। ডিলারদের কাছে যা সার আছে তা বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। নাসির জানান, পাহাড়ী অঞ্চলে বড় কৃষক রয়েছেন প্রায় ২০০ জন। সারের অভাবে সবাই বেকায়দায় আছেন। কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, ডিলারদের কাছে সারের জন্য গেলে বলে সার নেই। তবে কালোবাজারে হাঁটলে কিছু সার পাওয়া যায়। 
তাঁর ভাষ্য, সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনতে পারলে প্রতিমাসে বড় কৃষকের নূন্যতম ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বেঁচে যেত। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার তদারকি নেই। 
এদিকে চলছে আমন ধানের রোপা লাগানোর মৌসুম। সার না পেয়ে অনেক কৃষক জমি প্রস্তত করে বেকায়দায় রয়েছেন। 

আরও পড়ুন

×