ঘুষের অডিও ভাইরাল: ক্লোজড এসআইর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ
ফাইল ছবি
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | ১৯:২৫
ঘুষ দাবির অভিযোগে প্রত্যাহার (ক্লোজড) হওয়া চুনারুঘাট থানার সাবেক এসআই ফয়সাল আমীনের বিরুদ্ধে তদন্তে বাদীসহ দুই সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. ওমর আলী এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
সাক্ষ্য দিয়েছেন অভিযোগকারী আমতলার আলাউদ্দিন ও সাক্ষী মিজানুর রহমান। তারা লিখিত ও মৌখিকভাবে তাদের বক্তব্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে সাক্ষীদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১২ জুলাই সামাজিক মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। যেখানে মামলার প্রতিবেদনের বিনিময়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে এসআই ফয়সালের বিরুদ্ধে। অডিওতে তাঁকে বাদীর বড় ভাই সাহাব উদ্দিনের সঙ্গে ঘুষ লেনদেন নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ফাঁস হওয়া অডিওতে এসআই ফয়সলকে বলতে শোনা যায়, ‘নিয়ম হলো রিপোর্ট দিয়ে টাকা নেওয়া। আগে যেহেতু টাকা নিয়ে ফেলছি, এখন দায়সারা অবস্থায় পড়ে গেছি। আমি টাকা ছাড়া কোনো কথা বলি না। একজন মাত্র সাত হাজার টাকা দিয়ে গেছে। আপনার টাকাটা নিয়েই এখন বিপদে পড়ছি। সবাই জেনে গেছে।’
জবাবে ভুক্তভোগী বলেন, ‘সে আমার আসামি। ২০ হাজার না ৩০ লাখ টাকা দিলেও আপনি খাইবেন। কিন্তু আমার বিষয়টা যেন ঘুরিয়ে না দেন। ধান বিক্রি করে, ঋণ করে টাকা দিয়েছি।’ ওই অডিও প্রকাশের পর ৮ জুলাই ভুক্তভোগীর ছোট ভাই সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ৯ মাস আগে ওই ব্যক্তির স্ত্রী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই ফয়সাল আমিন। অভিযোগকারীর দাবি, লেখার খরচ ও তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত দেওয়ার কথা বলে এসআই ফয়সাল তাদের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পরে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করলে পরিবারটি তা দিতে না পারায় তিনি আসামি পক্ষের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এসআই ফয়সালের ইন্ধনে চলতি বছরের ২৯ মে বাদীর স্বামীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় আসামি পক্ষ। এতে তাঁর একটি হাত ও পায়ের হাড় ভেঙে যায়। বুকে ও পেটে গুরুতর জখম হয়। তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। যার মধ্যে তিন দিন আইসিইউতে ছিলেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে জুয়ার বোর্ডে অভিযান চালিয়ে টাকা গায়েব করার অভিযোগও রয়েছে। তিনি প্রায় সব মামলায় অর্থের বিনিময়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং আসামি পক্ষ থেকে সুবিধা নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও এসআই ফয়সাল আমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিভাগীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- হবিগঞ্জ
- ঘুষ
- এসআই ক্লোজড
