ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিপৎসীমায় কাপ্তাই হ্রদের পানি খুলছে বাঁধের ১৬ স্লুইসগেট

বিপৎসীমায় কাপ্তাই হ্রদের পানি খুলছে বাঁধের ১৬ স্লুইসগেট
×

.

রাঙামাটি অফিস

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | ০০:০৮

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিপৎসীমায় পৌঁছেছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ঝুঁকি এড়াতে মঙ্গলবার সকালে বাঁধের ১৬টি স্লুইসগেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৭ দশমিক ৮৪ ফুট মিনস সি লেভেল (এমএসএল)। বাঁধের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। তবে ১০৮ ফুট এমএসএলকে বিপৎসীমা হিসেবে ধরা হয়। পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে মঙ্গলবার সকালে বাঁধের ১৬টি স্লুইসগেট থেকে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ পানি ছেড়ে দেওয়া হবে। এতে প্রতি সেকেন্ডে কাপ্তাই হ্রদ থেকে ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে পড়বে। 
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমীন বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সোমবার কাপ্তাই হ্রদ পরিচালনা কমিটির এক জরুরি সভা হয়েছে। সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে মঙ্গলবার কাপ্তাই হ্রদের পানি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সোমবার বিকেলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার নিকটবর্তী হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাঁধের স্পিলওয়ের (স্লুইসগেট) গেট খুলে পানি ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে ঘোষিত সময়ের আগেও কোনো সময়ে স্পিলওয়ের গেট খুলে দেওয়া হতে পারে। স্লুইসগেট খোলার ঘটনায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
১৯৬০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দেওয়া হয়। এতে ৭২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাপ্তাই হ্রদের সৃষ্টি হয়। এ হ্রদ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন

×