ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জলজ প্রাণী

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জলজ প্রাণী
×

কুয়াকাটা সৈকতে পড়ে আছ মৃত জলজ প্রাণী

খান এ রাজ্জাক, কুয়াকাটা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২০ | ০৬:২৪ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২০ | ০৬:৪৯

পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জলজ প্রাণী। গত এক সপ্তাহে সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকায় ৫ থেকে ৬টি তিমি ও শুশুক মরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। 

বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশি জাহাজ থেকে নির্গত পোড়া তেলে সমুদ্রের পানির দূষণকে দায়ী করছেন। এদিকে সমুদ্র তীরে জলজ প্রাণী মরে পড়ে থাকলেও এর দায় নিতে চাচ্ছে না বনবিভাগ কিংবা মৎস্য বিভাগ।

জানতে চাইলে বনবিভাগের কুয়াকাটা সংলগ্ন গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাস্থল গঙ্গামতি তেত্রিশ কানী এলাকার সাগরপাড়ে পরিদর্শন করে দেখে এসেছেন। সেখানে একটি তিমির অংশবিশেষ পড়ে আছে। তিনি বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। তাকে জানানো হয়েছে যে এটি মৎস্য বিভাগ দেখবে। তাছাড়া তারা ঢাকায় বন্যপ্রাণি শাখাকে জানানোর চেষ্টা করবেন বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুইদিনে কুয়াকাটা হোটেল সী ভিউ এবং হোটেল কিংস সংলগ্ন সুমদ্র সৈকতে দুইটি শুশুক মরে পড়েছিল। ঢেউয়ে তীরে এসে পড়ে আছে। পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এগুলো। গত সপ্তাহে গঙ্গামতি তেত্রিশ কানী এলাকা সংলগ্ন সাগর তীরে একটি তিমি ও দুইটি শুশুক মরে পড়েছিল। 

সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলে মানিক বলেন, রামনাবাদ চ্যানেলের নদীর সংযোগস্থল ও সমুদ্রের মোহনায় অবাধ বিচরণ করে তিমি, ডলফিন ও শুশুক। জেলেদের জালে আটকা পড়ে এগুলো মারা যেতে পারে। তাছাড়া সমুদ্রের এই পথ দিয়ে বিদেশি অনেক জাহাজ পায়রা বন্দরে যায়। ওইসব জাহাজের বর্জ্যের প্রভাবেও এগুলো মরতে পারে। 

কুয়াকাটা মাঝধরা ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি নুরু মাঝি বলেন, অনেক সময় জালে এসব শুশুক তিমি আটকা পড়ে মারা যায়। এজন্য জিপিআরএস মেশিনে সমুদ্রের গভীরে দেখার জন্য আমাদের প্রশিক্ষণও দিয়েছে। পায়রা সমুদ্র বন্দরে নোঙর করা বড় জাহাজের চলাচলেও মরতে পারে বলে তার ধারণা।

তবে বরিশাল বিএম কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরের জলজ প্রাণী সৈকতে মরে পড়ে থাকার অন্যতম কারণ সাগরে দূষণ। বিদেশি জাহাজের পোড়া মবিল বা তেল সাগরে ফেললে জলজ প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতি হয়। 

এ প্রসঙ্গে বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, জলজ প্রাণী সাগর তীরে পড়ে থাকার সংবাদ তারা পাননি। যদিও এটি তাদের বিষয় নয়। মৎস্য বিভাগ এটি দেখবে। 

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আজিজুল হক বলেন, পানির মান খারাপ হলে জলজ প্রাণী মরতে পারে। তবে এ বিষয়টি বনবিভাগ দেখবে। তিনি পটুয়াখালী মৎস্য কর্মকর্তাকে ঘটনা খতিয়ে দেখতে অবহিত করবেন বলে জানান।



আরও পড়ুন

×