খালেকুজ্জামানের বাগানে জাপানের ‘সূর্যডিম’
বদরগঞ্জের মোস্তফাপুর গ্রামের নিজ বাগানে খালেকুজ্জামান প্রামাণিক সমকাল
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাঢ় লালচে রং, আঁশবিহীন শাঁস আর ব্যতিক্রমী মিষ্টতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত জাপানের ‘মিয়াজাকি’ আম। জাপানে ‘তাইয়ো নো তামাগো’ বা ‘সূর্যডিম’ নামে পরিচিত এ আম বিশ্বের অন্যতম দামি আম হিসেবেও পরিচিত। সেই আমই এবার বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের উদ্যোক্তা খালেকুজ্জামান প্রামাণিক (৩৮)।
ব্যতিক্রমধর্মী ও উচ্চমূল্যের ফল চাষের আগ্রহ থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক একর জমিতে ২১০টি মিয়াজাকি আমের চারা রোপণ করেন খালেকুজ্জামান। এখন পর্যন্ত বাগান গড়ে তুলতে তাঁর ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। এবারই প্রথম প্রতিটি গাছে ফল এসেছে।
খালেকুজ্জামান প্রামাণিক জানান, ১০ থেকে ১২ বছর ধরে হাড়িভাঙা আমের চাষ করছেন। নতুন কিছু করার চিন্তা থেকেই ইউটিউবে মিয়াজাকি আম সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে রাজশাহীর একটি বাগান থেকে ২১০টি চারা সংগ্রহ করে এক একর জমিতে রোপণ করেন। পরিবহন ব্যয়সহ প্রতিটি চারার দাম পড়ে প্রায় ৪৩০ টাকা।
তিনি বলেন, ‘প্রথম বছরেই সব গাছে আম এসেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আম সংগ্রহ শুরু করব। ৫০ থেকে ৫৫ মণ ফলন হবে বলে আশা করছি। বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রথম বছরেই প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আম বিক্রি করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, গত বছর দেশের বাজারে এই জাতের আম প্রতি কেজি প্রায় এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতির ওপর এ বছরের দাম নির্ভর করবে।
এদিকে ব্যতিক্রমী এই আমের বাগানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগান দেখতে আসছেন। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছেন। এতে নতুন করে অনেক কৃষক এ জাতের আম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক আরাফাত হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আমের বাগান এ এলাকায় আগে দেখিনি। ছোট অবস্থাতেই আমগুলো লাল রং ধারণ করায় দর্শনার্থীর কৌতূহল অনেক বেশি।’
আফতাবগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক এম এ মতিন সরকার বলেন, ‘বদরগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে মিয়াজাকি আমের চাষ এই প্রথম। প্রথম বছরেই ফলন ভালো হওয়ায় এটি এলাকার কৃষকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।’
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, জাপানের মিয়াজাকি এই আম ‘তাইয়ো নো তামাগো’ নামে পরিচিত। গাঢ় লাল রং, আঁশবিহীন শাঁস, উচ্চমাত্রার মিষ্টতা এবং আকর্ষণীয় আকৃতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি বিলাসবহুল ফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজ বলেন, ‘মিয়াজাকি একটি জাপানি জাতের উচ্চমূল্যের আম। শুরু থেকেই কৃষি বিভাগ ওই উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছে। গাছের বৃদ্ধি ও ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল চাষ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে বলে আমরা আশাবাদী।’ তিনি বলেন, নতুন জাতের ফল চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়াতে কৃষি বিভাগ সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। সফল হলে এ উদ্যোগ রংপুর অঞ্চলে উচ্চমূল্যের ফল চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
- বিষয় :
- বাগান