অর্থকষ্টে যমজ সন্তান বিক্রির চেষ্টা, ডিসির হস্তক্ষেপে রক্ষা
.
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:০৪
নেত্রকোনা পৌর শহরের নাগড়া আনন্দ বাজার এলাকার বাসিন্দা রাজন মিয়া। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে তাঁর যমজ দুই সন্তান বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীরা বিষয়টি শনাক্ত করে জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভায় উত্থাপন করলে জেলা প্রশাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপে রক্ষা পেয়েছে শিশু দুটি।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে গত বুধবার পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ওই দিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান নেত্রকোনা সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক শাহ আলমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরিবারটির আর্থিক সংকট ও দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। পরিবারের চার শিশুর মধ্যে অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা বড় সন্তানকে নেত্রকোনা শিশু পরিবারে (বালক) লালনপালনের জন্য পাঠানোর পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। তিনি নবজাতক যমজ শিশুর জন্য খাদ্য, পরিবারের জন্য শুকনা খাবার এবং নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিবারটির সার্বিক তত্ত্বাবধান অব্যাহত থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় সমাজসেবক শাহরিয়ার রহমান সাঈদ ও আবদুর রহমান জানান, রাজন খুবই অসহায় অবস্থার মধ্যে আছেন। তাঁর ছোট ছোট চারটি সন্তান। অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় দুই সন্তানকে বিক্রির চিন্তা করছিলেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক জানতে পেরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। থাকা খাওয়া, ঘর মেরামত ও সংসার চালানোর জন্য রিকশা কিনে দিচ্ছেন।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘অসহায় পরিবারটির খবর পেয়ে আমি নিজে তাঁর বাড়িতে গেলাম। গিয়ে দেখতে পেলাম তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাদের থাকার ঘরটিও ভাঙা। সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় ছোট দুটি জমজ সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার। সরকারের পক্ষ থেকে ঘর মেরামত ও সংসার চালানোর জন্য একটি রিকশা কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।
- বিষয় :
- সন্তান বিক্রি
