ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সুন্দরগঞ্জে এক দিনে অ্যানথ্রাক্সে ১০ গরুর মৃত্যু, সচেতনতায় মাইকিং

১১ ব্যক্তির শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক

সুন্দরগঞ্জে এক দিনে অ্যানথ্রাক্সে ১০ গরুর মৃত্যু, সচেতনতায় মাইকিং
×

গরু- ফাইল ছবি

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:৫২

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শনিবার ১০ গরুর মৃত্যু হয়েছে। এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে ভ্যাকসিন কার্যক্রমের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক গরুর মৃত্যু হলো। অবশ্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মানুষকে রোগটি সম্পর্কে সচেতন করতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি উঠান বৈঠক অব্যাহত রেখেছে।

উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামে চার, পশ্চিম বেলকা গ্রামে দুই, সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ গ্রামে এক, তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মিরগঞ্জ গ্রামে দুই ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটারি মহল্লায় একটি গরু মারা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এক হাজারের বেশি গরু অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে।

বেলকা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মজিবর রহমান মন্টু জানান, ভ্যাকসিন দেওয়ার পরও শনিবার কিশামত সদর গ্রামের খয়বর হোসেন, বাবুজার মিয়া, চান্দ মিয়া ও মোজা মিয়ার একটি করে চার গরুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের আরও তিন গরু অসুস্থ।

তিনি বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মাহবুবুর রহমানের অসুস্থ একটি গরু জবাই করা হয়। এরপর মাংস কাটাকাটিতে জড়িত মাহবুবুর, মোজা মিয়াসহ গ্রামের ১১ জনের শরীরে বৃহস্পতিবার অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। গুরুতর পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া ছয়জনসহ সবার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

এদিকে, শনিবার পশ্চিম বেলকার শাজাহান মিয়ার দুই, সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ গ্রামের ফরমান আলীর এক, তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মিরগঞ্জ গ্রামের শহিদুল ইসলামের দুই ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটারি মহল্লার আবদুল মতিনের একটি গরু মারা গেছে।

অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে উঠান বৈঠক করছেন। এসব প্রচারে বলা হচ্ছে, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু পরিচর্যা ও জবাই করে মাংস কাটাকাটি করলে মানুষের মাঝেও রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। গবাদি পশুর মধ্যে লক্ষণ দেখা গেলে কোনো অবস্থাতেই জবাই করা যাবে না। হাতে গ্লাভস পরে আক্রান্ত পশুর পরিচর্যা করতে হবে। মারা গেলে দ্রুত গবাদি পশুকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে।

সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ বদিরুল আহসান সেলিম জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তরা শনিবার তাঁর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বিল্পব কুমার দে জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গবাদি পশুর পাশাপাশি মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। এ জন্য পশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে রোগটি সম্পর্কে সচেতন করতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় করা হচ্ছে। শনিবার ১০টিসহ এ পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জে ১১ গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আক্রান্ত গবাদি পশু পরিচর্যায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জবাই কিংবা মাংস কাটাকাটি করা যাবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উপজেলা প্রশাসন মনিটরিং টিম গঠন করেছে। টিমের সদস্যরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ছাড়াও মানুষকে রোগটির বিষয়ে সচেতন করতে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন

×