ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাংনীতে বাড়ছে অ্যানথ্রাক্স হেলদোল নেই প্রশাসনের

গাংনীতে বাড়ছে অ্যানথ্রাক্স হেলদোল নেই প্রশাসনের
×

 ফারুক হোসেন, মেহেরপুর

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেরপুরের গাংনীতে ছড়িয়ে পড়েছে অ্যানথ্রাক্স। গত ৯ মাসে ৪৭১ জন আক্রান্ত হলেও রোগটি প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হেলদোল নেই। চলতি মাসেও রোগী বাড়ছে। গত আট দিনেই আটজন শনাক্ত হয়েছে।

উপজেলায় গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মিলে দুই লাখ ১৩ হাজার ৫০০ গবাদি পশু রয়েছে। বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার। তদারকির অভাবে অসুস্থ পশু জবাই করে কাটাকাটিতে জড়িতরা আক্রান্ত হচ্ছেন। দ্রুত গবাদি পশুকে টিকা ও আক্রান্তদের চিকিৎসায় কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য– গাংনীর ৯ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় জানুয়ারিতে ১৯ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন। এর পর ফেব্রুয়ারিতে ৩৪, মার্চে ৭৪, এপ্রিলে ৯৩, মে মাসে ৬৭, জুনে ৭২, জুলাইয়ে ৩৪, আগস্টে ৪৫ ও সেপ্টেম্বরে ৩৩ জন চিকিৎসা নেন। ইউনিয়নের মধ্যে কাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ১১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে কম ১৯ জন কাথুলীতে। অন্যান্য ইউপির মধ্যে মটমুড়ায় ৮৬, বামুন্দীতে ৬৬, তেঁতুলবাড়িয়ায় ৬১ ও সাহারবাটিতে ৪৬ জনের অ্যানথ্রাক্স হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল আজিজ বলেন, প্রতিদিনই অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে মানুষ হাসপাতালে আসছেন। আক্রান্ত বেশি হলে ওই এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। গত ৯ মাসে ১৪টি নমুনা পাঠিয়ে বেশির ভাগের অ্যানথ্রাক্স মিলেছে।  

তিনি জানান, কাজীপুর, করমদী, হাড়াভাঙ্গা, কল্যাণপুর, বামুন্দী, দেবীপুর, তেরাইল নওয়াপাড়া, সাহারবাটি, ভাটপাড়া, মাইলমারী, রাধাগোবিন্দপুর, কাথুলি, বেতবাড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত বেশি। 
উপজেলার কাজীপুরের বাসিন্দা মাংস ব্যবসায়ী আফাজউদ্দিন বলেন, অসুস্থ গরুর মাংস নাড়াচাড়া করার কয়েক দিন পর শরীরে ফোসকা দেখা দেয়। স্থানীয় চিকিৎসকের ওষুধে ক্ষত সারছিল না। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে নমুনা দিই। পরে ঢাকার পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্স ধরা পড়ে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোতালেব আলী জানান, তারা শতভাগ গবাদি পশুকে টিকার আওতায় আনার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে ৩০ হাজার টিকা দেওয়া হয়েছে। 
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, চামড়া ছাড়াও ফুসফুস এবং খাদ্যনালিতে অ্যানথ্যাক্স হয়। এতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। মানুষকে রোগটি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×