ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নিলামের দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিলামের দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
×

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অকেজো ভবন নিলামের দরপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তারা এ জন্য পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাওলাদার মিঠু ও তাঁর লোকজনকে দায়ী করেছেন।

ঠিকাদাররা জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট করে নির্দিষ্ট কয়েকটি দরপত্র জমা দিয়ে বিএনপি নেতা মিঠুর লোকজন বাকি দরপত্র আটকে রেখেছে। যে কারণে তারা এসব দরপত্র নির্দিষ্ট বাক্সে জমা দিতে পারেননি।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ নম্বর তারাকান্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৭ নম্বর আশুতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ল, ৯১ নম্বর জামিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১১ নম্বর সোনাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন চারটি ভবন এবং ভবনের পরিত্যক্ত মালপত্র নিলামে বিক্রির জন্য ৭ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত। সেই লক্ষ্যে ১২ ও ১৩ অক্টোবর প্রতিটি ভবনের জন্য আলাদা আলাদা নিলাম মূল্য নির্ধারণ করে অফেরযোগ্য এক হাজার টাকার বিনিময়ে দরপত্র বিক্রি হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ৩০ হাজার টাকার পে-অর্ডারসহ রোববার সকাল ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দরপত্র জমা নেওয়া হয়। এদিন বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে টেন্ডার বাক্স খোলেন নিলাম কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত।

জানা গেছে, জামিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ১০১টি দরপত্র শিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়ে পাঁচটি। সোনাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০১টি দরপত্র শিডিউলের মধ্যে জমা পড়ে ছয়টি। আশুতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়লয়ের ৯৬টি দরপত্র শিডিউলের মধ্যে জমা পড়ে পাঁচটি। তারাকান্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯১টি দরপত্র শিডিউলের মধ্যে জমা পড়ে দুটি। শিডিউল মূল্যের চেয়ে দর কম থাকায় তারাকান্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিলাম বাতিল করা হয়। অন্য তিনটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলামপ্রাপ্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর পরই উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন দরপত্র নিলাম জমা দিতে না পারা ব্যক্তিরা। 
সাবেক ইউপি সদস্য ও ঠিকাদার সবুর শেখের অভিযোগ, ‘বিএনপি নেতা মিঠু, নান্নু ও অনামিকা ৮-১০ জন ব্যক্তি নিয়ে আমাদের দরপত্র ছিনিয়ে নেন। আমরা এই নিলাম বাতিলের দাবি জানাই। নিলাম বাতিল করা না হলে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেব।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক নাজমুল দাড়িয়া বলেন, ‘আমি দরপত্র জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দরপত্র জমা দেওয়ার কথা বলে আমার হাত থেকে নিয়ে যান বিএনপি নেতা মিঠু। পরে যখন বাক্স খোলা হয় তখন বাক্সের ভেতরে আমার দরপত্র না দেখে অবাক হই। কিছু ব্যক্তি এ নিলামকে সিন্ডিকেট করেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিকেলে তাদের কিছু দরপত্র কালো ব্যাগে করে ওই সিন্ডিকেটের সদস্য উপজেলা পরিষদের নিচে ফেলে রেখে যায়। 
বক্তব্য জানতে কোটালীপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাওলাদার মিঠুর মোবাইল ফোনে একাধিককার কল দিলেও ধরেননি। উপজেল প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্তের ভাষ্য, নিলাম আহ্বান ও নিলামের কার্যক্রম বিধি অনুযায়ী পরিচালনা করেছেন। বাইরে থেকে কেউ কোনো অনিয়ম করেছেন কিনা, তা জানা নেই। 
ইউএনও সাগুফতা হকও নিলাম প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘দরপত্র জমা দিতে পারেননি বলে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন

×