সালিশে ২৪ লাখ টাকায় হত্যা মামলা রফা
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লার তিতাসে দোকানি মানিক মিয়া হত্যার ১৯ মাস পর ২৪ লাখ টাকায় বাদী ও আসামি পক্ষ রফাদফা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার বিকেলে কানাইনগর গ্রামে এক সালিশ বৈঠকে এই দফারফার ঘটনা ঘটে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার নিহত মানিকের তিন সন্তান ও স্ত্রীর নামে যৌথ এফডিআর চালু করে ১০ লাখ টাকা স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে রাখা হয়।
২০২৪ সালের ২১ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জগতপুর ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের পশ্চিমপাড়া চকের বাড়ির দোকানে সিগারেট নেই বলাতে দোকানি মানিক মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একই গ্রামের নায়েব আলী ভূঁইয়া ও তাঁর তিন ছেলে বাহাউদ্দিন, জালাল মিয়া ও আলাল মিয়াকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহত মানিকের বাবা মোখলেছুর রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জগতপুর ইউনিয়ন কানাইনগর গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিনের বাড়িতে গত বুধবার বাদ জোহর একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে দোকানি মানিক মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ২৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাদী মোখলেছুর রহমানকে ১২ লাখ, নিহত মানিকের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে ২ লাখ এবং নাবালক তিন সন্তানকে ১০ লাখ টাকা ভাগ করে দেওয়া হয়। তবে সংসারের সবচেয়ে ছোট ছেলের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা যৌথ এফডিআর করে ব্যাংকে রাখা হয়েছে। এদিকে স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পূর্ণ টাকা না দিয়ে মামলার বাদী মোখলেছুর রহমান ১২ লাখ টাকা নেওয়ায় এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জগতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তারুল হক মাস্টার জানান, সালিশে সিদ্ধান্তের সময় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বাদী-বিবাদীর সম্মতিতে গ্রাম্য পঞ্চায়েতের মাধ্যমে এই রফাদফা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই সালিশ বৈঠকে কোনো সভাপতি ছিল না। বাদী, আসামিপক্ষের লোকজন ও আমরা স্থানীয় ৪-৫ জন মিলে এই সালিশ ঘরোয়াভাবে করেছি।’
সোনালী ব্যাংক পিএলসি তিতাস শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, বৃহস্পতিবার ১০ লাখ টাকার একটি যৌথ এফডিআর খোলা হয়েছে। হত্যা মামলার বাদী-বিবাদীসহ ১৭-১৮ জন ব্যাংকে এসেছিলেন।
কুমিল্লা জজ কোর্টের আইনজীবী মাকসুদা জান্নাত জানান, হত্যা মামলা সালিশে মীমাংসা ও আপসযোগ্য নয়, অবশ্যই মামলার আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে হবে। মামলার বাদী, সাক্ষী, তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক জবানবন্দির মাধ্যমে মামলার রায় হবে।
- বিষয় :
- সালিশ
