ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ

একমাত্র ছাত্রাবাস পরিত্যক্ত ১০ বছর ধরে

একমাত্র ছাত্রাবাস পরিত্যক্ত ১০ বছর ধরে
×

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের ছাত্রাবাস ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে সমকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:২৩ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ। উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজও এটি। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একমাত্র ছাত্রাবাস অন্তত ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বেশি অর্থ ব্যয়ে তাদের বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা হয় এই কলেজ। বর্তমানে এখানে ছাত্রছাত্রী প্রায় ৪ হাজার। উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাস কোর্স ছাড়াও কলেজটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম ও হিসাব বিজ্ঞান– এই তিন বিষয়ে রয়েছে অনার্স কোর্স। ২০১৮ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। 
বিখ্যাত দানবীর শহীদ রণদা প্রসাদ সাহার দান করা ৭ দশমিক ৭৯ একর জমিতে মির্জাপুর কলেজ নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। কয়েক বছর আগে শহীদ রণদা প্রসাদ সাহার ছেলে শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহার নামে কলেজটির নামকরণ করা হয়।

৫০ থেকে কমে ১৬, এখন তা-ও নেই

কলেজ প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর ছোট পরিসরে নির্মিত হয় একটি ছাত্রাবাস। কলেজের নিজস্ব জমিতে স্থাপিত এ ছাত্রাবাসে টিনের ঘর এবং টিনশেড ঘর মিলিয়ে আসন ছিল ৫০টি। ২০১২ সালে সেগুলো ভেঙে চার কক্ষের একটি টিনশেড ঘর করা হয়। প্রতি কক্ষে চারটি করে সেখানে আসন রাখা হয় মাত্র ১৬টি। অযত্ন অব্যবস্থাপনায় সেটিও ২০১৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাত্রাবাসটি কলেজের হলেও তত্ত্বাবধানের জন্য সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মালি, সুইপারও ছিলেন না কখনও। ফলে অযত্ন অব্যবস্থাপনায় ছাত্রাবাসটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়তে শুরু করে। এতে আস্তে আস্তে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বছর দশেক আগে বসবাসের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছাত্রাবাসটি। শিক্ষার্থীরা সবাই চলে গেলে এরপর থেকে এটি পরিত্যক্ত হয়ে আছে। এখন ছাত্রাবাসের চতুর্দিকে ঘাস লতাপাতায় পরিপূর্ণ হয়ে জঙ্গলে রূপ নিয়েছে। আর্থিক সংকটে কলেজ কর্তৃপক্ষও এটি সংস্কার করতে পারছে না বলে জানা গেছে। 

শিক্ষার্থীরা জানান, এক সময় কলেজটিতে মির্জাপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হতেন। পরবর্তীকালে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হলে আশপাশের উপজেলা এবং জেলার শিক্ষার্থীরাও এই কলেজে ভর্তি হতে শুরু করেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ভরসা ছিল কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাসটি। সেটি পরিত্যক্ত থাকায় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের বেশি টাকা দিয়ে আশপাশে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। 

কলেজের কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মির্জাপুরের বাইরে পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাসে থাকতে পারছেন না। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বেশি টাকা খরচে বাসা ভাড়া করে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।

পাবনা থেকে আসা দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত জানান, কলেজের গেটের বাইরেই একটি ছাত্রাবাস আছে। অথচ সেটি চালু না থাকায় এলাকার একটি বাসায় পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে এক কক্ষ ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। এরপর খাওয়া ও লেখাপড়ার খরচ তো আছেই। এত খরচ চালাতে আমার পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও ভিপি আবু আহমেদ বলেন, আমাদের সময় কলেজ ছাত্রাবাস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মেধাবী ছাত্ররা ছাত্রাবাসে থেকে লেখাপড়া করতেন। এখন অনলাইনের মাধ্যমে দূরের ছাত্ররাও এই কলেজে ভর্তি হচ্ছেন। তারা যাতে কম খরচে থেকে লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য ছাত্রাবাসটি ফের চালু করা দরকার।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওছমান গণি বলেন, কলেজের জন্য ছাত্রাবাস খুবই জরুরি। দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এই কলেজে ভর্তি হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বেশি টাকা খরচ করে ভাড়া বাসায় থাকছে বলে আমি জেনেছি। বর্তমানে পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসটি আর্থিক সংকটের কারণে সংস্কার করা যাচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে আবেদন করা হবে বলে তিনি জানান। 

আরও পড়ুন

×