ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পথ আটকে দিয়েছেন প্রতিবেশীরা ভোগান্তিতে ১০ পরিবার

পথ আটকে দিয়েছেন প্রতিবেশীরা ভোগান্তিতে ১০ পরিবার
×

সামাজিক রীতি ভেঙে প্রতিবেশীদের চলার পথ আটকে দিয়েছেন চার বাড়ির মালিক সমকাল

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:৪০ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

এক সারিতে ১৪টি বাড়ি। প্রতিবেশীরা একে অন্যের ঘরের পাশের খোলা জায়গা দিয়ে চলাচল করেন। সামনের দিকে থাকা চারটি বাড়ির মালিক হঠাৎ বেড়া দিয়ে নিজেদের জায়গা ঘিরে ফেলেছেন। এতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হওয়ায় ১০টি পরিবার এক রকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর হলদিয়া গ্রামের বায়তুল নূর জামে মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে। গ্রামীণ জনপদের যুগ যুগের সামাজিক রীতি এভাবে লঙ্ঘন করে প্রতিবেশীদের বিপাকে ফেলায় গ্রামবাসীও বিষয়টির সমালোচনা করছেন।

এ ঘটনায় গত সোমবার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছে। প্রধান অভিযোগকারী জমেলা বেগমসহ অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীরা উল্লেখ করেন, বিগত ৫০ বছর ধরে তারা ১০০ গজ দূরের মূল রাস্তায় উঠার জন্য পার্শ্ববর্তী অন্য মালিকদের ব্যক্তিগত জমি হাঁটা পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। কিছুদিন আগে ওই সম্পত্তির মালিকরা চলাচলের পথটি টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন। এতে তারা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। একাধিকবার ওই মালিকদের অনুরোধ করলেও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

গতকাল বুধবার সরেজমিন হলদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসারকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের বাড়ির চলাচলের জায়গা টিন ও কাঠের বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছেন প্রতিবেশীরা। এখন আরেকটি বাড়ির পাশের সরু জায়গা দিয়ে কোনো রকমে বের হচ্ছেন পেছনে থাকা বাড়িগুলোর সদস্যরা।

ভুক্তভোগী আনছার আলী বলেন, বহুকাল থেকেই আমাদের বাপ-দাদারা এসব বাড়ির পাশ দিয়ে চলাচল করে এসেছেন। কখনও কোনো ঝামেলা হয়নি। এখন হুট করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করায় আমরা ১০টি পরিবার বিপাকে পড়েছি।  আমাদের জায়গা সবই ডোবা এবং পুকুর। ডোবা ও পুকুরের পাশ দিয়ে রাস্তা তৈরি করতে হলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর সময় দিলে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে রাস্তার তৈরির আবেদন করার সুযোগ পেতাম।

আরেক ভুক্তভোগী নিহার বেগম জানান, প্রতিবেশীরা আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। জিজ্ঞেস করলে বলে, তাদের জমিতে তারা বেড়া দিয়েছে। কেউ মারা গেলে বাড়ি থেকে লাশও বের করার রাস্তা নেই। অভিযুক্ত প্রতিবেশী মোজাম্মেল বেপারী ও কামাল বলেন, কাগজপত্রে রাস্তার উল্লেখ নেই। আগে খোলামেলা ছিল, যে যার মতো রাস্তা ব্যবহার করেছে। তারা আরও বলেন, যদি পাশের অন্য জমির মালিকরা রাস্তা দেন, তাহলে আমরাও দেব। তবে রাস্তার পরিবর্তে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহিন সরদার বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় রাস্তাটি হলেও হঠাৎ তা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। দুই পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের মালিকানায় থাকা ডোবা ও পুকুরের জায়গা দিয়ে রাস্তা করার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।
লৌহজং ইউএনও নেছার উদ্দিন বলেন, রাস্তা আটকে দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি দেখতে হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।  

 

আরও পড়ুন

×