একাদশ শ্রেণিতে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার একটি সরকারি টেকনিক্যাল কলেজের একাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি। গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এমন ফলাফলের ঘটনায় কলেজ শিক্ষকদের গাফিলতি ছিল কিনা, তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
উপজেলার হোসেনাবাদ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ ফলাফল করে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ট্রেডের ৬৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় সব পরীক্ষার্থীই ফেল করে। অন্য বিষয়ে পাস করলেও সবাই উচ্চতর গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ কারণে একাদশ শ্রেণিতে কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফেল করলেও নিয়ম অনুযায়ী তারা দ্বাদশ শ্রেণিতে উন্নীত হবে, তবে পরে ওই বিষয়ে ফের পরীক্ষায় অংশ নিতে কৃতকার্য হতে হবে।
কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলে, ‘পরীক্ষায় সবাই ফেল করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অনেকেই তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছি, তাতে পাস করার মতো নম্বর হওয়ার কথা। কিন্তু সবাই কেন ফেল করল তা বুঝতে পারছি না। খাতা চ্যালেঞ্জ করব।’
আনোয়ারুল ইসলাম নামে অভিভাবক বলেন, এতগুলো শিক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখানে শিক্ষকদের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
প্রতিষ্ঠানটির উচ্চতর গণিত বিষয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হয়নি, পড়ালেখায়ও ছিল দুর্বলতা। সেই কারণেই সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এমন ফলাফলে তাঁর গাফিলতির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
কলেজটির অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান জানান, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগে কখনও এমন ফল হয়নি। তবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে বাধা নেই।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। একাদশ শ্রেণিতে কেন কেউ পাস করেনি, এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকের গাফিলতি রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
- বিষয় :
- ফেল
