ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রেললাইনে চোখ রেখে জীবন কেটে যায়

রেললাইনে চোখ রেখে  জীবন কেটে যায়
×

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘লোকোমাস্টার অনেকটা ধ্যানী বকের মতো। দৃষ্টি মেলে রাখেন রেললাইনের ওপর। কোনোভাবেই দৃষ্টি সরানোর সুযোগ থাকে না। ঝড়বৃষ্টি বা দুর্যোগ মুহূর্তে সতর্ক হতে হয় আরও বেশি। কাজের সময় আট ঘণ্টা বাঁধা হলেও কাজ করতে হয় ১২ ঘণ্টা। বিশ্রামের সুযোগ মিলবে না। এভাবেই কেটে যায় 
দিন-মাস-বছর।’ 

আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ট্রেনচালক রবিউল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী হেডকোয়ার্টারে তাদের আট ঘণ্টার ডিউটি শেষে ১২ ঘণ্টা বিশ্রাম করার কথা। কিন্তু রেলওয়ের কর্মী সংকট থাকায় তাদের ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে। টানা কাজ করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। তাই মধ্যবর্তী স্টেশনে ক্রু পরিবর্তন, লোকোশেড বেইজড ট্রেন সমন্বয়সহ পাঁচ দাবি সংবলিত গণস্বাক্ষর পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। কাজ হয়নি। 

জানা গেছে, ২০১৪ সালে উল্লাপাড়া রেলস্টেশনে একতা ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না। সম্প্রতি পশ্চিমাঞ্চল রেলের কয়েকজন লোকোমাস্টার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোকোমাস্টার বা এলএমদের ট্রেন নিয়ে যাত্রাপথের দূরত্ব ১০০ মাইল অথবা আট ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। কিন্তু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেন চলাচলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই নিয়ম মানা হয় না। ২০১৩-১৪ সালে ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে ১০০ মাইল অন্তর অথবা আট ঘণ্টা অন্তর ক্রু (এলএম) পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়। সে সুপারিশ এখনও কার্যকর হয়নি। টানা ১২ ঘণ্টা কাজ করার পর চালক ক্লান্ত হয়ে পড়লেও বিশ্রামের সুযোগ নেই। 

পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঈশ্বরদী হেডকোয়ার্টারে কর্মরত এলএম সাহিদ হোসেন, মহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন চালক জানান, বিরতিহীন ট্রেন চালাতে গিয়ে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাড়তি কর্মঘণ্টা ও দীর্ঘ পথের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। 
পাকশী বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী লোকো (ডিএমই লোকো) মাইন উদ্দিন সরদার বলেন,  দীর্ঘ সময় ট্রেন চালাতে গিয়ে লোকোমাস্টাররা প্রায়ই মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন। ট্রেন দুর্ঘটনার এটি অন্যতম কারণ। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে কর্মঘণ্টা ও রেলপথের দূরত্ব বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া উচিত।   
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) লিয়াকত হোসেন সমকালকে বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে। লোকোমাস্টারসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×