ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ম্যারাথনে ৭৪ বছরের বৃদ্ধ থেকে ১০ বছরের শিশু

ম্যারাথনে ৭৪ বছরের বৃদ্ধ থেকে ১০ বছরের শিশু
×

‘সুরমা রানার্স সুনামগঞ্জ’-এর উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো সুনামগঞ্জে শুক্রবার হাফ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। দুটি ক্যাটেগরিতে ৩৫০ জন রানার অংশ নেন -সমকাল

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জে দ্বিতীয়বারের মতো শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে হাফ ম্যারাথন। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৩৫০ জন রানার অংশ নেন। এদের মধ্যে ১০ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৭৪ বছর বয়সী বৃদ্ধও ছিলেন।

‘সুরমা রানার্স সুনামগঞ্জ’-এর উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো সুনামগঞ্জে শুক্রবার হাফ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৬টায় পৌর শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে ম্যারাথন শুরু হয়। এতে দুটি ক্যাটেগরিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৩৫০ জন রানার (নারী-পুরুষ) অংশ নেন। ১০ কিলোমিটার ও ২১ কিলোমিটার দুই ভাগে ম্যারাথন হয় সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কে।

ম্যারাথন চলাকালে নির্ধারিত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। মোড়ে মোড়ে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিযোগীদের জন্য পানি, স্যালাইন, হালকা খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে সেগুলো নেন প্রতিযোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়।
দৌড় শেষে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা জমির হোসেন (৫৫) বলেন, ‘আমি নিয়মিত দৌড়াই। এ জন্য সুস্থ আছি। দৌড়ালে ওষুধ খেতে হবে না। শরীর-মন সুস্থ রাখার জন্য এটাই প্রাকৃতিক ওষুধ।’ দেশের যে প্রান্তেই ম্যারাথন হয়, জমির হোসেন অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেক সময় পুরস্কারও পেয়েছেন। 

রাজবাড়ী থেকে আসা বিশ্বজিত রায় জানান, তিনি ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত দৌড়ান। দেশে ও দেশের বাইরে একাধিক ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। 
চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া রাইয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ম্যারাথনে অংশ নেন সুনামগঞ্জ শহরের মারুফ আহমদ মান্না। তিনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। মারুফ বলেন, ‘সুস্থ থাকাটা জরুরি। এত চমৎকার আয়োজন হচ্ছে জেনে অংশ নিলাম।’
ঢাকা থেকে আসা ৭৪ বছর বয়সী খবির উদ্দিন খান ছিলেন ম্যারাথনের মূল আকর্ষণ। ম্যারাথনে অংশ নিতে আগের দিন তিনি চলে আসেন সুনামগঞ্জে। তাঁকে ঘিরে সবার ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। রানারদের সবার ‘দাদু’ তিনি। খবির উদ্দিন খান বলেন, ‘পরিমিত খান, নিয়মিত দৌড়ান, দেখবেন আপনি ভালো থাকবেন। নিজে ভালো থাকা এবং অন্যদের ভালো থাকতে উৎসাহ দিতেই ম্যারাথনে অংশ নিই।’

‘সুরমা রানার্স সুনামগঞ্জ’-এর প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সুনামগঞ্জে এটা দ্বিতীয় হাফ ম্যারাথনের আয়োজন। আমি নিজেও একজন রানার। ম্যারাথন আয়োজনে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষসহ অনেকেই সহযোগিতা করেছেন, আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’

বেলা ৮টার দিকে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল, সাংবাদিক-আইনজীবী খলিল রহমান। 
সুনামগঞ্জ হাফ ম্যারাথনে ১০ কিলোমিটারের (পুরুষ) দৌড়ে প্রথম হন দীপ তালুকদার, দ্বিতীয় হৃদয় পার্থ, তৃতীয় হন জনি আহমেদ; নারীদের মধ্যে ১০ কিলোমিটার দৌড়ে প্রথম হন তাবাসসুম ফেরদৌস, দ্বিতীয় সানজানা তাবাসসুম, তৃতীয় কামনা রানী সরকার। পঁয়তাল্লিশোর্ধ্বদের ১০ কিলোমিটারে প্রথম হয়েছেন বিশ্বজিত দাস, দ্বিতীয় আকরামুল ইসলাম, তৃতীয় শামীম খান।
২১ কিলোমিটার দৌড়ে প্রথম হন গোলাম রাহাত তোফায়েল, দ্বিতীয় মহিবুর রহমান, তৃতীয় তোফায়েল আহমেদ রনি। পঁয়তাল্লিশোর্ধ্বদের ২১ কিলোমিটার দৌড়ে প্রথম হয়েছেন জমির হোসেন, দ্বিতীয় গৌরবপদ রায়, তৃতীয় আনোয়ার হোসেন।
বিজয়ীদের অর্থ, সনদ, ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

 

আরও পড়ুন

×