ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে মায়া হরিণের দেখা

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে মায়া হরিণের দেখা
×

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। ফাইল ছবি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | ০০:২০

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গতকাল সোমবার দেখা মিলেছে মায়া হরিণের।

২০০৪ সালে প্রায় ২৪৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে সাতছড়ি বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। তখন থেকে বন বিভাগ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। বনভূমিতে অবৈধভাবে গাছ কাটা, পশু শিকার এবং দখল রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে লোকালয়ে ধরা পড়া বিভিন্ন বন্যপ্রাণী– যেমন বানর, মেছোবাঘ, বনবিড়াল, পেঁচা, বেজি, সাপ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি উদ্ধার করে এই উদ্যানে অবমুক্ত করা হচ্ছে। ফলে বনে আবারও প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা চিত্র দেববর্মা বলেন, সোমবার সকালে বনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি গাছের ছায়ায় ঘাস খাচ্ছে মায়া হরিণ। বনে এখন বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখা মেলে। তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় বড়দের মুখে শুনেছি, সাতছড়িতে আগে হরিণ দেখা যেত। এখন আবার চোখে দেখা যাচ্ছে।
সাতছড়ি রেঞ্জের তেলমাছড়া বিট অফিসার মো. মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, বন সংরক্ষণে আমরা এখন সতর্ক। নিয়মিত টহল দেওয়া হয়, স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবৈধ প্রবেশ ও শিকার কার্যক্রম প্রতিরোধ করছি। লোকালয়ে ধরা পড়া বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে আমরা সাতছড়িতে ছেড়ে দিচ্ছি, যাতে তারা প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে যেতে পারে। সম্প্রতি মায়া হরিণ দেখা যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।

তিনি আরও জানান, বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। যাতে তারা বন্যপ্রাণী রক্ষায় সহযোগিতা করে এবং অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তথ্য দেন।
সাতছড়ি সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি, ৩০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ ও শতাধিক প্রজাতির গাছগাছালি রয়েছে। বনের ভেতরে রয়েছে পাহাড়ি ছড়া, টিলা, প্রাকৃতিক জলাধার এবং ঘন বৃক্ষরাজি, যা বন্যপ্রাণীর টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।

মৌলভীবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান হারানো ঐশ্বর্য ফিরে পাচ্ছে।

আরও পড়ুন

×