ব্যস্ততম সময়ে অচল হয়ে পড়ে শহর
টাঙ্গাইল শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশার যানজট সমকাল
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে টাঙ্গাইল। অনুমোদনহীন অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচলের কারণেই লেগে থাকছে যানজট। যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে পৌরসভার প্রায় প্রতিটি সড়কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি অটোরিকশা চলাচলে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শহরবাসী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অফিসগামী যাত্রী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স শাখার তথ্যমতে, পৌরসভার লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ছয় হাজার এবং পায়ে চালিত প্যাডেল রিকশা রয়েছে পাঁচ হাজার। টাঙ্গাইল পৌরসভা ১০ হাজার ৫০০ টাকা ফির পরিবর্তে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সড়ক পরিবহন বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।
সেই নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত অমান্য করে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর এসব অটোরিকশার লাইসেন্স দেন। বিগত সময়ে পৌরসভা থেকে পায়ে চালিত প্যাডেল রিকশার লাইসেন্স নিয়ে পৌরসভার এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সেগুলো ব্যাটারিচালিত রিকশায় রূপান্তর করা হয়েছে। এটি পৌরসভার আইন বহির্ভূত।
পৌরসভার তালিকায় ছয় হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও পাঁচ হাজার প্যাডেল রিকশার অনুমোদন থাকলেও শহরে ৩ থেকে ৪ গুণ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। রিকশা-অটোরিকশার পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি অফিস, ব্যাংক-বীমা, আদালতের যানবাহন, চিকিৎসক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ির পাশাপাশি গড়ে প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি মোটরসাইকেল চলাচল করছে। একই সঙ্গে ইমারত তৈরির সরঞ্জামাদি ও বালুবাহী ট্রাক-ড্রামট্রাক সব সময় শহরে চলাচল করছে। ফলে জেলা সদর রোড, বেবিস্ট্যান্ড, শান্তিকুঞ্জ মোড়, মেইন রোড, নিরালা মোড়, পার্কবাজার মোড়, ক্যাপসুল মার্কেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, সুপারি বাগান মোড়, কলেজ গেট, নতুন বাস টার্মিনাল, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়মিত যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শহরজুড়ে লাগামহীন যানজট লেগে থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে দুই শিফট চালু করা হয়। তবে বালুবাহী ট্রাক-ড্রামট্রাক ও ইমারত তৈরির সরঞ্জামবাহী যানবাহন চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না। যানজট নিরসনে মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও মাত্রাতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
শহরে বসবাসকারী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, শহরের বর্ধিত জনসংখ্যার প্রয়োজনে অতিরিক্ত রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করছে। এর সঙ্গে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নম্বরবিহীন রিকশা ও অটোরিকশা। ফলে ব্যস্ততম সময়ে এক প্রকার অচল হয়ে পড়ে শহর। শহরে চলাচলকারী রিকশাচালকদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ না থাকায় যত্রতত্র পার্কিং, ওঠানামা করার কারণে যানজট প্রকট আকার ধারণ করে। এসব অবৈধ রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
টাঙ্গাইলের ট্রাফিক পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, পৌরসভা অতিরিক্ত অটোরিকশার লাইসেন্স দিয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভার রাস্তা খানাখন্দে ভরা। নতুন নতুন অটোরিকশাও নামছে। ফলে যানজট বেড়ে যাচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। পৌরসভার রাস্তাগুলো সংস্কার হলে কয়েকটি রাস্তা ওয়ানওয়ে করলেই কিছুটা সুফল পাওয়া যাবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া জানান, তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। রিকশা ও অটোরিকশা তৈরি আইনগতভাবে বৈধ নয়। এ ধরনের কোনো রিকশা তৈরির কারখানার সন্ধান পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক (উপ-সচিব) শিহাব রায়হানের ভাষ্য, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা বা অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশামুক্ত শহর গড়তে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছে। এই অবৈধ রিকশাগুলো আটক করে ডাম্পিং করা যায় কিনা সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
- বিষয় :
- ব্যাটারিচালিত রিকশা
