কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা নামল ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
ছবি: সমকাল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:৪১ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:৪১
উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কুড়িগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা বাতাসে জন-জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। সব থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন জেলার ৯ উপজেলার চর ও দ্বীপচরে বসবাসরত বয়স্ক ও শিশুরা।
কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, আজ বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ।
শীতজনিত কারণে জেলার হাসপাতালগুলোতে এখনো ভর্তি রোগীর সংখ্যা না বাড়লেও হিম শীতল ঠান্ডা বাতাসে ঘরে ঘরে শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে অসুস্থ হচ্ছে বলে জানান কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আল আমিন মাসুদ। তিনি জানান, কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা না থাকলেও শীতের হিমেল বাতাসে প্রতিদিন গড়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১০ থেকে ১৫ জন শিশু শীতজনিত রোগে আক্রান্তের চিকিৎসা নিচ্ছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
ঠান্ডা বাতাসের কারণে দিনের বেলা সূর্যের তাপমাত্রা তেমন গরম প্রভাব ফেলছে না। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি।
জেলা শহরের পুরাতন থানাপাড়ার বাসিন্দা দিবাকর বোস বলেন, সকালে কাজে যেতে খুবই কষ্ট হয়। রোদ থাকলেও ঠান্ডা বাতাসে হাত-পা অবশ হয়ে আসে।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর ইয়ুথনেটের বাসিন্দা শাহিনা বেগম বলেন, ‘নদীপাড়ে আমরা থাকি। ভোর বেলা আর সন্ধ্যার পর প্রচুর কুয়াশা পড়ে। দিনের বেলা কুয়াশা না থাকলেও ঠান্ডা বাতাস খুব থাকে।’
একই এলাকার দিনমজুর আকবার হোসেন বলেন, ‘শীতের কারণে সকালে কাজে যাইতে দেরি হয়। ঠান্ডায় হাত-পা চলতে চায় না, তবু কাজ না করে উপায় নাই। পেট তো চলা লাগবে।’
জেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘জেলায় আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৫ ডিসেম্বরের পরে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ঘন কুয়াশা না থাকলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, শীতবস্ত্র বিতরণের তালিকা তৈরি হয়েছে। খুব দ্রুত জেলার শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণের কাজ শুরু হবে।
