ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জামায়াতের নেতারা অনুষ্ঠানে, বর্জন করলেন মুক্তিযোদ্ধারা

জামায়াতের নেতারা অনুষ্ঠানে, বর্জন করলেন মুক্তিযোদ্ধারা
×

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা বর্জন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৩

জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আমন্ত্রণ করায় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা বর্জন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। নির্দেশনা না থাকায় এদিন পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘দুর্জয় পাবনা’র তালা খোলা হয়নি। পরে সাংবাদিকেরা যাওয়ার পর এক কর্মী তালা খুলে দেন। শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বরিশালে বিএনপির দুই পক্ষের মারামারিতে ১০ জন আহত হয়েছেন।

আলোচনা সভা বর্জন

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় মোহনগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিবসটি উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার। তবে সেখানে এসে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের দেখতে পেয়ে সভা বর্জন করে চলে যান বীর মুক্তিযোদ্ধারা। 

পরে পৌর শহরের স্টেশন রোডে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে  মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে মঞ্চে স্থান দেওয়ায় আমরা আলোচনা সভা বর্জন করেছি। যারা স্বাধীনতাযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করলো, তাদের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে বসতে পারি না। এখানে কোনো আপস করতে পারি না।’

ওই সভায় তাদের পক্ষ থেকে জামায়াতকে না রাখতে ইউএনওর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘আমাদের অনুরোধ তিনি (ইউএনও) রাখেননি।’

সেখানে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হক মাহবুব, মোহনগঞ্জ উপজেলা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী চৌধুরী হীরা প্রমুখ।

এ বিষয়ে ইউএনও আমেনা খাতুনের ভাষ্য, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব রাজনৈতিক দলের নেতাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা সভায় দেরিতে আসেন। আমাদের পাশেই তাদের জন্য আলাদা চেয়ারও রাখা হয়েছিল। কিন্তু তারা চেয়ারে না বসে ব্যস্ততা দেখিয়ে হলরুম ছেড়ে যান।’ 

তালাবদ্ধ ছিল দুর্জয় পাবনা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দুর্জয় পাবনা চত্বরে সাংবাদিকরা যান সকাল সাড়ে ৭টায়। তারা গিয়ে দেখেন স্মৃতিসৌধের ভেতর-বাইরে চারটি তালা ঝুলছে। এ সময় ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস স্টাফ ওয়াজেদ মিয়া ও আরদালি সুজন মিয়া। সাংবাদিকরা গেটের বাইরেই ফুল রাখতে উদ্যত হন। তখন চাবি নিয়ে আসা এক কর্মী বলেন, আজ (রোববার) কোনো দিবস আছে, সেটা তাঁর জানা নেই। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্দেশনাও পাননি। পরে তিনি তালা খুলে দিয়ে ফুল দেওয়ার অনুরোধ করেন। 

পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, ‘এটা কেমন কথা। জেলা প্রশাসন কি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের বিষয়ে জানে না, নাকি জেনেও পালন করবে না। তারা কি অন্যদের পালনে নিরুৎসাহিত করতে এমনটি করেছে?’

পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফাকে কল দেওয়া হলেও ধরেননি। 

তর্কাতর্কি-হাতাহাতির পর মারামারি

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে রোববার দুপুর ১২টার দিকে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন বিএনপির দুই পক্ষের নেতকর্মীরা। হামলার জন্য দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারীদের দায়ী করেন মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন। তাঁর ১০ সমর্থক আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

×