প্রতিরক্ষা বাঁধের একপাশে জিও ব্যাগ, অন্যপাশে বালু উত্তোলন
কমলগঞ্জের ধর্মপুর এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। ছবি: সমকাল
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৮
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। এর অন্যপাশে রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগানের লোহার সেতুর কাছে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও সেতুর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয়রা মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরপরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ধর্মপুর ও রামচন্দ্রপুর এলাকার ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, দুটি ব্রিজ ও পরিবেশ-প্রতিবেশ।
দেখা যায়, রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা লোহার সেতুর কাছে ধলাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে জিও ব্যাগ স্থাপন কার্যক্রম চলছে। এর একই স্থানে নদীর মাঝখান থেকে ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে অন্যপাশে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিগত প্রায় দুই মাস ধরে সেতুর কাছ থেকে বালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় এক ইজারাদার। এতে লোহার সেতু এবং নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে জিও ব্যাগ স্থাপন কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে। এর আগে চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে গত নভেম্বর মাসে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে গণদরখাস্ত দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, ধর্মপুর ও রামচন্দ্রপুরে মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে ধলাই নদীর ওপর দুটি লোহার সেতু রয়েছে। কয়েক বছর আগে মিরতিংগা সেতুর উত্তর পাশে প্রায় ২০০ মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আশপাশের এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে। একই সময়ে সংলগ্ন স্থানে ড্রেজার মেশিনে শুরু হয় বালু উত্তোলন।
মাটি ও বালি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অমান্য করে বালু উত্তোলনের ফলে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশের সম্ভাবনাময়ী সম্পদ। বালু মহাল নয় এমন কিছু জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনজীবনে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক হুমকি।
তবে বালু উত্তোলনকারী ইজারাদার দাবি করছেন ইজারা নিয়ে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। অভিযুক্ত বালু মহাল ইজারাদার খোরশেদ আলম বলেন, ইজারার স্থান হচ্ছে সেতুর কাছাকাছি ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ এলাকায়। সেটি রক্ষা করেই বাধ্য হয়ে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঁধের কাজের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের অযত্ন দৃশ্যমান। একদিকে যখন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষায় কাজ চলছে, অন্যদিকে তখন বালি উত্তোলন চলমান। এতে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ সামাল দেওয়া যাবে না। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে মানুষের। এর আগেও এই বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বন্যার সৃষ্টি হয়। যার কারণে স্থানীয় কৃষকদের ফসলহানির ঘটনাও ঘটে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, ব্লকের পাশ থেকে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সেতুর কাছ থেকে কোনো অবস্থাতেই বালু উত্তোলন করা যাবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহীনা আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন। ইউএনও দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
- বিষয় :
- কমলগঞ্জ
