ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তারাকান্দায় মানবাধিকার দল 

দিপু দাস হত্যায় রাষ্ট্রের অবহেলা দৃশ্যমান

পরিবারের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র: শিক্ষা উপদেষ্টা

দিপু দাস হত্যায় রাষ্ট্রের অবহেলা দৃশ্যমান
×

ছবি : সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৫:৩৮

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে নৃশংসভাবে নিহত দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নাগরিক কোয়ালিশনের প্রতিনিধি হিসেবে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমের নেতৃত্বে ১৮ জনের একটি দল তারাকান্দার মোকামিয়াকান্দা গ্রামে দিপুর বাড়িতে যায়। 

একই দিন দিপুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি জানান, পরিবারটির দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। 

দিপুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শহিদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মব সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম অবহেলা আজ দৃশ্যমান।

তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তি হত্যাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি এসব ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। মানবাধিকার দলটি দীপুর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার নানা তথ্য বিস্তারিত শোনেন। পরিদর্শনে আসা নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ ধর্মের নামে চলা ‘মব সন্ত্রাস’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

পরিবারের দায় নেবে রাষ্ট্র 
দিপুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় শোকাহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দিপু হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ। এর পেছনে কোনো অজুহাতই গ্রহণযোগ্য নয়। দিপুর পরিবার একা নয়; রাষ্ট্র তাঁর স্ত্রী, দেড় বছরের সন্তান ও পুরো পরিবারের আর্থিক ও আইনিসহ সব দায়ভার নেবে। 

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি আইনশাসিত রাষ্ট্র। মতভেদ বা গুজবে কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কাউকে দেয় না। একটি দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠী বিভাজন সৃষ্টি করে এসব উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে কোনো চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না। বাইরের কোনো উস্কানি বা কোনো অপকর্ম নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।

তিনি জানান, ইতোমধ্যেই এই ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

অপরাধের বিচার না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে : আসক 
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিপু দাসকে পরিকল্পিত মব তৈরি করে হত্যার পর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সংস্থাটি মনে করে, এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় সমাজে একটি দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
 
উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি চান শ্রমিকরা 
দিপু দাস হত্যার ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ চার দফা দাবি দিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন। এ ছাড়া দিপু হত্যার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন।

আরও পড়ুন

×