পুকুরে চুবিয়ে লাবনীকে হত্যা করেন সৎ মা: পুলিশ
লাবনী (বায়ে) ও তার সৎ মা শামছুন নাহার -সংগৃহীত ছবি
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২০ | ০৩:৪৭
লাবনীর জন্মের বছর না পেরুতেই বাবার সঙ্গে মায়ের বিচ্ছেদ হয়। ছোট সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন স্ত্রী ঘরে আনেন কৃষক বাবা আবু চাঁন। কিন্তু সৎ মায়ের সংসারে লাবনী ও তার দুই ভাইয়ের নানা ঝক্কি পোহাতে হতো। সন্তানদের দিকে বাবার নজর থাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর চক্ষুশূল হতে থাকে লাবনী। পারিবারিক কলহের জেরে লাবনীকে রাতে ঘর থেকে বের করে বাড়ির সামনের পুকুরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন সৎ মা।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের তারাকান্দায়। আদালতে শিশু লাবনী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সৎ মা শামছুন নাহার।
পুলিশ জানায়, তারাকান্দা উপজেলার ভালকি বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবু চাঁন। তিনি পেশায় কৃষক। প্রায় ১৯ বছর আগে প্রথম সংসার পেতেছিলেন সাজেদা বেগমের সাথে। সে সংসারে রিফাত (১২), আরাফত (১০) ও লাবনী (৮) নামের তিন সন্তানকে রেখে ৭ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় আবু চাঁনের। তখন লাবনী আক্তারের বয়স মাত্র এক বছর। পরে ৫ বছর আগে আবু চাঁন নতুন বিয়ে করে সন্তানদের জন্য মা নিয়ে আসেন। শামছুন নাহার নামে এক নারীকে বিয়ে করেন আবু চাঁন। শামছুন নাহারও বিবাহিত ছিলেন। তারও আগের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান ছিলো। লাবনীদের কষ্ট দূর করতে সংসারে নতুন মা আনা হলেও সমস্যা আরো বাড়তে শুরু করে। সৎ সন্তানদের সহ্য করতে পারতেন না শামছুন নাহার। সন্তানদের প্রাধান্য দেওয়ায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া লেগে থাকতো শামছুন নাহারের। কলহের জের ধরে গত শনিবার রাত ৮ টার দিকে লাবনীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান সৎ মা। পরে বাড়ির সামনের পুকুরে চুবিয়ে লাবনীকে হত্যা করেন তিনি। এরপর শরীরের ভেজা কাপড় পরিবর্তন করতে ঘরে আসার সময় দেখে ফেলে লাবনীর ভাই আরাফাত। এদিকে লাবনীকে কোথাও পাওয়া না যাওয়ায় চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে রাত ১০ টার দিকে লাবনীর লাশ ভেসে ওঠে পুকুরে। খবর পেয়ে তারাকান্দা থানার একদল পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় সৎ মা শামছুন নাহারকে। এ ঘটনায় আবু চাঁন বাদি হয়ে স্ত্রী শামছুন নাহারের বিরুদ্ধে রোববার থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শামছুন নাহারকে রোববার বিকেলে ময়মনসিংহ ৬ নম্বর আমলী আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক দেওয়ান মনিরুজ্জামান সন্ধ্যা পর্যান্ত শিশু লাবনী হত্যার আসামি সৎ মা শামছুন নাহারের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা তারাকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার আল মামুন বলেন, লাবনীকে ছোট রেখে তার মায়ের বিচ্ছেদ হয়। সৎ মায়ের সংসারে বেড়ে উঠা লাবনীদের নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পথের কাঁটা দূর করতে লাবনীকে তার সৎ মা পুকুরে চুবিয়ে হত্যা করেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়।