ছুরিকাঘাতের পর আগুন, মারা গেলেন সেই ওষুধ ব্যবসায়ী
খোকন দাস
শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:৪০
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া ওষুধ ব্যবসায়ী খোকন দাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিহত খোকন দাস ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকার বাসিন্দা। তিলইকান্দি বাজারে ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি তিনি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের এজেন্টও ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে খোকন দাসের ওপর হামলা চালানো হয়। সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিতে এ হামলা হয় বলে জানা গেছে। দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তার শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। পরে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর শরীরের ক্ষত স্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ব্যবসায়ী খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা করেন। এতে কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান, সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদারকে আসামি করা হয়।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন বলেন, আমরা খোকন দাসের স্বজনদের কাছ থেকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
