লোকবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে বন বিভাগের কার্যক্রম
বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
লোকবলের অভাবে খুঁড়িয়ে চলছে বন বিভাগের কার্যক্রম। একজন কর্মকর্তাকে একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বন প্রহরীর সংখ্যাও তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বন ও বনভূমি রক্ষার মতো কাজ। এমন অবস্থা দেখা গেছে শেরপুরের বন অধিদপ্তরে।
সরেজমিন জানা গেছে, বন বিভাগের ভবনগুলো জরাজীর্ণ ও অরক্ষিত। বাধ্য হয়েই সেখানে থাকতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। নিয়ম অনুযায়ী বন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দপ্তরে অবস্থান করার কথা থাকলেও বসবাসযোগ্য বাসভবন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হচ্ছে না।
শেরপুরের ৩ উপজেলায় ৩টি ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস রয়েছে। নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা, ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া ও শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরী রেঞ্জ। ওই ৩টি রেঞ্জের আওতায় রয়েছে ১০টি বিট অফিস। যার মধ্যে রয়েছে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের আওতায় সমশ্চুড়া, বাতকুচি ও সন্ধ্যাকুড়া বিট, ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জের আওতায় রাংটিয়া, গজনী ও তাওয়াকোচা বিট, শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরী রেঞ্জের আওতায় বালিজুরী, মালাকুচা, কর্ণঝোড়া ও ডুমুরতলা বিট।
৩টি রেঞ্জের আওতায় প্রায় ২০ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, ওইসব বিশাল বনভূমি ও বনের মূল্যবান গাছ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে শতাধিক লোকবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী; যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ৩টি রেঞ্জের প্রায় সব বিটেই রেঞ্জ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে একই ব্যক্তির একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা।
জেলার সবকটি বিট এলাকাতেই রয়েছে নানামুখী সমস্যা। বিট অফিস ও আবাসিক ভবনগুলো এতটাই জরাজীর্ণ, যেখানে অফিস করতে বা রাত্রিযাপন করতে রীতিমতো আতঙ্কে থাকেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মাঝেমধ্যে বন্যহাতির পাল হানা দেয় বিট অফিসের কার্যালয়ে। জরাজীর্ণ ভবন থাকলেও বিট অফিসগুলোতে নেই বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। কূপের পানি পান করতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তাদের বাস ভবনের অভাবে কেউ কেউ বাসা ভাড়া নিয়ে বন এলাকার বাইরে বসবাস করেন। এতে ব্যাহত হয় দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড।
জেলা সদরের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়েরও একই দশা। সহকারী বন সংরক্ষকের একটি গাড়ি থাকলেও তা বিকল হয়ে পড়ে আছে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, রেঞ্জগুলোতে ২ থেকে ৪টি মোটরসাইকেল থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী। মধুটিলা রেঞ্জের কর্মকর্তা দেওয়ান আলী, বালিজুরী রেঞ্জের কর্মকর্তা সুমন মিয়া, রাংটিয়া রেঞ্জের আব্দুল করিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিশাল এলাকাজুড়ে বন ও বনভূমি। কিন্তু কর্মকর্তাদের জন্য নেই কোনো গাড়ি বা পিকআপ ভ্যান। ফলে চোরাইকাঠ, পাথর, বালু আটক করার সময় বিপাকে পড়তে হয় কর্মকর্তাদের। অফিস থেকে দূরে গভীর বনাঞ্চলে চুরির ঘটনা ঘটলে গাড়ির অভাবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোও সম্ভব হয় না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তঃযোগাযোগের ওয়াকিটকি ব্যবহার এবং অফিসিয়াল তথ্যাদি আদান-প্রদানে বিশেষ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট সুবিধা অত্যন্ত জরুরি বলে জানান বন বিভাগে দায়িত্বরতরা।
শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক সাদেকুল ইসলাম খানের ভাষ্য, লোকবলের অভাবে জবরদখল হওয়া জমি উদ্ধারসহ নানা কাজে হিমশিম খেতে হয়। কোনো ঘটনায় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে গিয়ে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। এরপরও নিয়মিত দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, এ ছাড়া বনে অবৈধ বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বন
