ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নির্যাতনে জড়িতদের বিচারের দাবি শিক্ষার্থীর

নির্যাতনে জড়িতদের  বিচারের দাবি শিক্ষার্থীর
×

কুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান সমকাল

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

নির্যাতনে জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান। 

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে তিনি অবস্থান শুরু করেন। এর আগে বুধবার খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।
কুয়েট শিক্ষার্থীরা জানান, সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করায় ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাহিদুর রহমানকে কুয়েটের ড. এম এ রশিদ হল থেকে তুলে নিয়ে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হলের গেস্টরুমে নিয়ে রাতভর পিটিয়ে সকালে তাঁকে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাদেক হোসেন প্রামাণিক বাদী হয়ে জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

৫২ দিন কারাভোগ করার পর ২০২২ সালের ২ নভেম্বর জাহিদুর জামিনে মুক্তি পান। তারপরও তিনি ক্লাসে ফিরতে পারেননি। পরের দুই বছর পালিয়ে, বাড়ি থেকে লেখাপড়ার চেষ্টা করেন। কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে পারেননি। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাহিদুর ক্যাম্পাসে ফেরেন। লেখাপড়াও শুরু করেন। ততদিন তাঁর জীবন থেকে দুটি বছর হারিয়ে গেছে। জাহিদুরের মতো প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থীর জীবন এভাবে ঝরে গেছে। প্রতিবারই নির্যাতিতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
জাহিদুর রহমান জানান, অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি কুয়েট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন। প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরের মাসে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের ১৩ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়। যিনি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই কর্মকর্তা এবং যারা তাঁকে ক্লাসে যেতে বাধা দিয়েছেন তাদের কোনো বিচার হয়নি। 
তিনি আরও বলেন, ওই সময় ছাত্রলীগের পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাদেক হোসেন প্রামাণিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নির্যাতকের ভূমিকা পালন করেছেন। তৎকালীন উপাচার্য, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, হল প্রভোস্টসহ কিছু শিক্ষক ছিলেন আরও আগ্রাসী। তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নামও এসেছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়নি। তারা এখনও বীরদর্পে চাকরি করছেন। 
জাহিদুর বলেন, তিনি বেশ কয়েকবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বিচার চেয়েছেন। আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তারপরও সবাই না শোনার ভান করছেন। প্রশাসন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, নির্যাতনে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত করা, দুই বছরের একাডেমিক ও আর্থিক ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং তাঁর শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন করার নিশ্চয়তা দিতে হবে–এই তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করবেন। 

আরও পড়ুন

×