ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আ.লীগ সরকারের সমালোচনা করায় নির্যাতন: বিচারসহ তিন দাবিতে কুয়েট ছাত্রের অবস্থান

আ.লীগ সরকারের সমালোচনা করায় নির্যাতন: বিচারসহ তিন দাবিতে কুয়েট ছাত্রের অবস্থান
×

ছবি: সমকাল

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:৩৫

নির্যাতনে জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বিশ্ববিদালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন তিনি। শুক্রবার বিকেলেও সেখানে ছিলেন জাহিদুর। তিনি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত স্থান ত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন। তার কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি।

কুয়েট শিক্ষার্থীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করায় ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাহিদুর রহমানকে কুয়েটের ড. এম এ রশিদ হল থেকে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হলের গেস্ট রুমে নিয়ে রাতভর পিটিয়ে সকালে তাকে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাদেক হোসেন প্রামাণিক বাদী হয়ে জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৫২ দিন কারাভোগ করার পর ২০২২ সালের ২ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে ক্লাসে ফিরতে পারেননি। পরের দুই বছর পালিয়ে বাড়ি থেকে লেখাপড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর জাহিদুর ক্যাম্পাসে ফেরেন। লেখাপড়াও শুরু করেন।

জাহিদুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট আমি বিচার চেয়ে কুয়েট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিই। প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরের মাসের ১৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের ১৩ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু যিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন, সেই কর্মকর্তা এবং যারা আমাকে ক্লাসে যেতে বাঁধা দিল, তাদের কোনো বিচার হয়নি। প্রতিবেদনে আমাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও পাইনি।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় ছাত্রলীগের পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাদেক হোসেন প্রামাণিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নির্যাতকের ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন উপাচার্য, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, হল প্রভোস্টসহ কিছু শিক্ষক ছিলেন আরও আগ্রাসী। তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নামও এসেছিল। কিন্তু প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়নি। তারা এখনও বীরদর্পে চাকরি করছেন।

জাহিদুর বলেন, আমি বেশ কয়েকবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানাই। কিন্তু প্রশাসন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি সংবাদ সম্মেলন করে বিচার চেয়েছি। আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। তারপরও সবাই না শোনার ভান করছেন। কোনো উপায় না পেয়ে আমি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছি। প্রশাসন গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আমাকে কপি সরবরাহ করা, নির্যাতনে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, আমার দুই বছরের একাডেমিক ও আর্থিক ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আমার শিক্ষা জীবন নির্বিঘ্ন করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এই তিন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করবো।

এ বিষয়ে কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে না। ওই ছাত্রকে বুঝিয়ে বলেছি। তার সমস্যা আইনিভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেবো।

আরও পড়ুন

×