ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

জনপ্রতিনিধিকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ, ‘সমন্বয়ক’ অবরুদ্ধ

জনপ্রতিনিধিকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ, ‘সমন্বয়ক’ অবরুদ্ধ
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সিলেট ব্যুরো ও জকিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৮:০২ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৮:১৪

সিলেটের জকিগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা নিয়ে তোলপাড় চলছে। ঘটনার পর ‘মব’ সৃষ্টিকারী ছাত্রদল কর্মী ও ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ধারী জাফর আহমদকে কয়েকঘণ্টা ইউএনও কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত পর্যন্ত প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাফর আহমদের বিরুদ্ধে সরকার পরিবর্তনের পর মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে পুলিশে সোপর্দ করা আব্দুস শহীদকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশে সোপর্দের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার। তারা পৃথক বিবৃতিতে এ ধরনের ‘মব’ সৃষ্টির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

বিএনপি সভাপতি শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, জাফল ছাত্রদলের কোনো নেতা নয়। মাঝে মধ্যে মিছিল সভায় আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও মাসুদুর রহমান জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বুধবার বিকেলে জরুরি সভা আহ্বান করেন। সভাস্থলে সমন্বয়ক পরিচয়ধারী ছাত্রদল নেতা ও সরকার পরিবর্তনের পর দায়ের করা একটি মামলার বাদী জাফর আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হন। তারা মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ওই সময় ফেসবুকে লাইভও করেন জাফর।

বিষয়টি জানাজানি হলে মানিকপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ মিছিলসহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। ওই সময় জাফর আহমদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার্থে জাফর আহমদ ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে সাধারণ মানুষ ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকের সময় জাফর আহমদ কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

জাফর উপজেলার বারঠাকরি উত্তরবাগের বাসিন্দা ও ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট উপজেলা শহরে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় করা একটি মামলার বাদী। মামলায় নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করে ১০৭ জনের নাম উল্লেখ করে ২৫০-৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। ওই দিনের ঘটনায় শিবিরের সাবেক নেতা হুসেন আহমদও বাদী হয়ে সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করেন। একইভাবে আরেক ছাত্রদল কর্মী আনোয়ার হোসেন মিলন আরেকটি মামলা করেন। পরে তিনি সেটি প্রত্যাহার করে নেন। এসব বাদীদের বিরুদ্ধে তখন মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে।

বৃধবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সাত মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাফর আহমদকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন ইউএনও। তখন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা দাবি করেন।

বৈঠকে উপস্থিত উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান জানান, আব্দুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয়। আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাও নন তিনি। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে তা সকল রাজনৈতিক দলের জন্য অমঙ্গলজনক। সভার শেষ দিকে জাফর আহমদকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন উপস্থিত কিছু লোক। ওই সময় তার জামার পকেট ছিঁড়ে যেতে দেখা যায়।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ইউএনও কার্যালয় থেকে ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের কাছে সোপর্দ করা জনপ্রতিনিধি শহীদকে ১৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাকে কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। জাফর আহমদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

×