ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টিটিসি-বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মিলেমিশে চাঁদাবাজি

টিটিসি-বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মিলেমিশে চাঁদাবাজি
×

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্সে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। বিআরটিএ’র চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নাম করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি তাদের প্রশিক্ষণ ভাতাও দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে নওগাঁ টিটিসিতে ‘সিসেফ’ প্রকল্পের আওতায় দুটি ব্যাচে মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থীকে চার মাসব্যাপী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গত ২৯ ডিসেম্বর নওগাঁ বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার আগের দিন ২৮ ডিসেম্বর সিসেফ প্রকল্পের দুই শিক্ষক ওয়ালীউল্লাহ সানি ও মাহবুব আলম নয়ন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ২ হাজার টাকা করে আদায় করেন।

প্রশিক্ষণার্থী নুরুন্নবী, হাবিবুর রহমান, রবিউল ইসলামসহ আরও অনেকে জানান, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, টাকা না দিলে বিআরটিএ পরীক্ষায় কেউ পাস করতে পারবে না। তারা বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষণ ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। উল্টো আমাদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এটি সরাসরি আমাদের ওপর জুলুম।’
টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন শিক্ষক ওয়ালীউল্লাহ সানি ও মাহবুব আলম নয়ন। তাদের দাবি, বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের ঘুষ না দিলে তারা শিক্ষার্থীদের পাস করায় না। মাহবুব আলম নয়ন বলেন, ‘বিআরটিএর চাহিদা অনুযায়ী আমরা বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টাকা সংগ্রহ করে তাদের দিয়েছি। টাকা না দিলে তারা যে কোনো অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেয়।’
সংঘটিত দুর্নীতি প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিটিসির এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, এই 
ঘুষের টাকার ভাগ বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছেও যায়। এটি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে নওগাঁ বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি। সহকারী পরিচালক রাশেদুজ্জামান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি মন্তব্য করবেন না। 
অন্যদিকে, টিটিসি নওগাঁর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান বলেন, ‘প্রশিক্ষণের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগের প্রমাণ পেলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন রেজা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘুষের বিনিময়ে অদক্ষ চালকদের লাইসেন্স দেওয়া মানে সড়ক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এটি কেবল দুর্নীতি নয়, একটি ফৌজদারি অপরাধ।
একই কথা বলেন সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি ডিএম আব্দুল বারী। তাঁর ভাষ্য, সরকারি প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আড়ালে এমন অরাজকতা দক্ষ জনশক্তি তৈরির মূল লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাঁর দাবি, দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

আরও পড়ুন

×