ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যুবককে খুন করে মরদেহ টুকরো করে ফেলা হয় খালে-ডাস্টবিনে

নারীসহ আটক ৪

যুবককে খুন করে মরদেহ টুকরো করে ফেলা হয় খালে-ডাস্টবিনে
×

মো. আনিস

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৬:০৮ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৬:১৩

চট্টগ্রামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে কেটে টুকরো টুকরো করে নগরের খালে-ডাস্টবিনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরের অক্সিজেন মোড়ের লোহারপুল শীতলঝর্ণা খাল থেকে ওই যুবকের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মো. আনিস (৩৮) রাউজান উপজেলার চিকদাইর গ্রামের কবির আহম্মদের বাড়ির হায়দার আলীর ছেলে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, এক নারীর সঙ্গে আনিসের বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। চিকিৎসার জন্য স্বজনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় তিন লাখ টাকা ওই নারীর কাছে জমা রেখেছিলেন। সেই টাকা চাইতে গেলে মনোমালিন্য শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ গুম করতে টুকরো টুকরো করা হয়। তবে ওই নারী পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, আনিস তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই নারী, তার দুই ভাই এবং ভাতিজাকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার পশ্চিম শহীদনগরের রংধনু গলি এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন দুটি হাত উদ্ধার করে পুলিশ। হাতের আঙুলের ছাপ যাচাই করে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে ছবিসহ আনিসের নাম-ঠিকানা পাওয়ায় যায়। ঠিকানা অনুযায়ী আনিসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নারীর তথ্য পায় পুলিশ। ওই নারী এবং তার স্বজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা একপর্যায়ে আনিসকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে বায়েজিদের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনিসের শরীরের টুকরো উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে নগরের শীতল ঝর্ণা খাল থেকে তার মাথার অংশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

আনিসের স্বজনরা জানান, ওই নারী তাদের প্রতিবেশী একজনের স্ত্রী। তাদের একাধিক সন্তানও রয়েছে। বছরখানেকের মধ্যে আনিসের সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারী স্বামীকে ছেড়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদ নগরে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে যাতায়াত ছিল আনিসের।

আনিসের ভাগ্নি জামাই মো. সেলিম সমকালকে বলেন, ‘শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আনিস। চিকিৎসার জন্য স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। সেই টাকা ওই নারীর কাছে রেখেছিলেন। শুনেছি সেই টাকা চাইতে গেলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়েছে। পুলিশ ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করেছে।’

রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘যে নারীর সঙ্গে আনিসের সম্পর্ক ছিল, সেই নারী তার প্রতিবেশী একজনের স্ত্রী ছিলেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন। তার আগের স্বামীও আরেকটি বিয়ে করেছে। আনিসকে অক্সিজেন এলাকায় বিভিন্ন সময় দেখা গেলেও কোথায় থাকতেন তা তার পরিবারের লোকজনও জানতেন না। অক্সিজেন এলাকায় ওই নারীর বাবার বাড়ি। সেখানে আনিসের যাতায়াত ছিল বলে শুনেছি।’

এ বিষয়ে জানতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জাহিদুল কবিরকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে অভিযানে থাকা একই থানার এসআই হারেস মোহাম্মদ কুসুম সমকালকে বলেন, ‘আনিসের শরীরের প্রায় সব অংশ পেয়েছি। বিস্তারিত অভিযান শেষে জানানো হবে।’

আরও পড়ুন

×