ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আড়াই কিলোমিটারের দুঃখ

আড়াই কিলোমিটারের দুঃখ
×

 তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

আড়াই কিলোমিটার বাইপাস রেললাইন। শুধু এতটুকু রেললাইনের অভাবেই ঢাকা থেকে কক্সবাজার কিংবা কক্সবাজার থেকে ঢাকায় সরাসরি ট্রেন চালানো যাচ্ছে না। ঢাকা-কক্সবাজারে চলাচলকারী ট্রেনগুলোকে চট্টগ্রাম স্টেশনে যেতে হয়। সেখানে ইঞ্জিনের মুখ ঘুরিয়ে, লাইন পরিবর্তনের মাধ্যমে যেতে হয় গন্তব্যে। 

২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার রেললাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর তিন বছরের বেশি সময় পরও বাইপাস রেললাইনটি নির্মাণ করা যায়নি। পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে এই বাইপাস নির্মাণের কথা থাকলেও প্রকল্পটি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার চট্টগ্রাম-দোহাজারী ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্পের সঙ্গে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কমবেশি পাঁচ বছর লেগে যাবে। বাইপাস না হওয়া পর্যন্ত এই সময় পর্যন্ত চট্টগ্রামে ইঞ্জিনের মুখ ঘুরিয়ে চলাচল করতে হবে ঢাকা-কক্সবাজারের ট্রেনগুলোকে। স্বাভাবিকভাবে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারে ট্রেন যাওয়ার রেললাইন নেই চট্টগ্রামে। ফলে ঢাকা-কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেন চালাতে সেই চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থেকে ঝাউতলা পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার বাইপাস রেললাইন নির্মাণ করতে হবে। এটা হলে বাইপাস ধরে ঢাকা থেকে আসা ট্রেন পাহাড়তলী স্টেশন ও পাহাড়তলী রেলওয়ের মার্শালিং ইয়ার্ড-আমবাগান বাইপাস ব্যবহার করে ষোলশহর স্টেশন হয়ে সরাসরি কালুরঘাট সেতু দিয়ে কক্সবাজারে চলাচল করতে পারত। এতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাইপাস রেললাইন প্রকল্পটিকে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্প থেকে আলাদা করা হলে এবং রেললাইন নির্মাণ করা গেলে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই ঢাকা-কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেন চালানো যাবে। তবে রেলওয়ের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, বড় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের সঙ্গে বাইপাস রেললাইন যুক্ত করা হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের শুরুতে বাইপাস নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। ফলে আড়াই কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে বেশি সময় লাগবে না।

বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ এবং ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ নামে দুটি ট্রেন চলাচল করে। ট্রেনে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে আট থেকে ৯ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সরাসরি ট্রেন চালানো গেলে সব মিলিয়ে ঘণ্টাখানেক সময় কমে আসবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাতায়াতে আলাদা ট্রেন রয়েছে।
রেলওয়ের তথ্যমতেই, রেলওয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন। রেলের মোট যাত্রীর ৩২ শতাংশ এবং পণ্যের ৫৫ শতাংশই এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ থেকেই রেললাইনটির গুরুত্ব অনুমান করা যায়। রেলের সবচেয়ে লাভজনক রুটও এটি।

চট্টগ্রাম শহর থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের দোহাজারী পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়ে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে অর্থের উৎস নিশ্চিত করতে না পারায় প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডিবির সঙ্গে ইআরডির চুক্তি হয়েছে। ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পে সংস্থাটি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে ৬৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ১৭ পয়সা হিসাবে বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় আট হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা দূর হলেও ঢাকা-কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেন চলাচলের জন্য আড়াই কিলোমিটারের বাইপাস রেললাইন নির্মাণকে আলাদা প্রকল্প না করে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে অবশ্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সবুক্তগীন সমকালকে বলেন, ঢাকা-কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেন চালানোর বিষয়টি রেলওয়ের একটি অগ্রাধিকার বিষয়। তবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজ রেলপথে রূপান্তর প্রকল্পের সঙ্গে আড়াই কিলোমিটারের বাইপাস রেললাইন প্রকল্প যুক্ত করায় মনে করা হচ্ছে, হয়তো এটি নির্মাণে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। কিন্তু প্রকল্পটির শুরুতেই বাইপাস রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এটা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া যে স্থান নিয়ে বাইপাস করা হবে, সেটি রেলওয়ের জায়গা। ফলে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতায়ও পড়তে হবে না। এভাবে করা হলে দুই বছরের মধ্যে বাইপাস রেললাইন নির্মাণের কাজ হয়ে যাওয়ার কথা।
 

আরও পড়ুন

×