ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রেলের জমি দখল, গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা

রেলের জমি দখল, গড়ে  উঠছে অবৈধ স্থাপনা
×

ফাতেমানগর রেলস্টেশন এলাকায় রেলওয়ের জমিতে নওহেলাল সংঘের নামে শুরু হয়েছে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ সমকাল

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রিশালে রেলওয়ের জমি দখল করে গড়ে উঠছে বিভিন্ন স্থাপনা। কাঁঠাল ইউনিয়নের কালির বাজার রেলস্টেশন এলাকায় ১৫ দশকিক ৪৮ একর জমি ক্রমে দখল হয়ে যাচ্ছে। রেলের জমি দখল করে নওহেলাল নামে একটি সংগঠন বহুতল ভবন নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিমত, রীতিমতো জমি দখলে মেতে উঠেছেন কতিপয় ব্যক্তি। ছোট-বড় স্থাপনা ছাড়াও বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। উল্টো মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাঁঠাল ইউনিয়নের কালির বাজার (ফাতেমানগর) এলাকায় ধলা আমিয়ান মৌজায় বিআরএস রেকর্ডভুক্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৫ দশমিক ৪৮ একর জমি রয়েছে। তার মধ্যে ১১ একর ৭৭ শতাংশ জমিতে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ, রেললাইন স্থাপন, মসজিদ, হালট, পুকুর ও দোকান রয়েছে। বাকি তিন একর ৭১ শতাংশ জমির প্রায় পুরোটাই দখল হয়ে গেছে। সম্প্রতি নওহেলাল নামে একটি সংগঠন বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেছে। যা সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের নীতিমালা বহির্ভূত।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, দলীয় প্রভাব, স্থানীয় প্রভাব ছাড়াও রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায়ও দখল হয়েছে সম্পত্তির একটি বড় অংশ। দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের সম্পত্তি দখল হলেও অদৃশ্য কারণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে কোনো পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। সম্প্রতি নওহেলাল নামে একটি সংগঠনের বহুতল ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের চেষ্টা চলছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ফাতেমানগর রেলস্টেশনের পূর্বদিকে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও সড়কের পাশে নওহেলাল নামে একটি সংগঠন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ করছে। আইনের তোয়াক্কা না করে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনোপ্রকার অনুমতি ছাড়াই ভবন নির্মাণ করছে নওহেলাল নামের সংগঠনটি। এ ছাড়া অনেকেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে তুলেছেন স্থাপনা।
রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা অনেক, স্টেশনের প্রায় পুরো জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবলে। যে যার মতো করে দখল করছে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেই। অবৈধ দখলের বিষয়ে প্রতিবছরই একবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়। এর বাইরে তাঁর কিছু করার নেই।
রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগের ব্যাপারে নওহেলাল সংঘের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, রেলওয়ে থেকে কৃষি ইজারা নিয়েছিলেন আব্দুল হক ও ইম্রাফিল নামে দুই ব্যক্তি। তাদের কাছ থেকে ৬২ শতাংশ জমির ইজারা দখল কিনে নেওয়া হয়েছিল নওহেলালের নামে। আইন বহির্ভূতভাবে এখানে কিভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজ বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি সচিবের সঙ্গে কথা বলে কৃষি ইজারা বাতিল করে সংগঠনের নামে বাণিজ্যিক ইজারার আবেদন করা হয়েছে।
রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, এর তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নোটিশ করার পর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালানোর ব্যবস্থা করা হবে। নওহেলালের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×