ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভোট দিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত

বাসের দাবিতে চবির মূল ফটকে বিকেলে তালা চাকসুর, খুলল রাতে

বাসের দাবিতে চবির মূল ফটকে বিকেলে তালা চাকসুর, খুলল রাতে
×

মূল ফটক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে তালা ঝুঁলিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১:৩৫

শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যাতায়াতের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মূল ফটক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে তালা ঝুঁলিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। চাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে যাতায়াতের জন্য প্রশাসন বাসের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। তবে রাত আটটার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে চাকসুর নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর চাকসু নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা ফটকের সামনে অবস্থান নেন। 

সোহানুর সমকালকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা মারার সংস্কৃতিতে আমরা ফিরতে চাই না। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতা আমাদের বাধ্য করেছে। সারাদেশে নির্বাচনের আমেজ চলছে। অনেক শিক্ষার্থী ভোট দিতে আগ্রহী হলেও কাউন্টারে গিয়ে টিকিট না পেয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছেন। চাকসুর উদ্যোগে আমরা একাধিকবার বাস ভাড়া করার চেষ্টা করেছি এবং প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি। উপাচার্যের কাছে বারবার আবেদন করেও প্রথমে কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

তবে তালা খুলে দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের যে আলোচনা হয়েছে, তাতে পরিষ্কার—প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাস দেওয়া হবে না। এই মুহূর্তে ক্যাম্পাসে প্রশাসনের কেউ উপস্থিত নেই। তবে উপাচার্য বাস ভাড়ার একটি অংশ বহন করবেন—এমন আশ্বাস দিয়েছেন। এই দুটি বিষয় বিবেচনা করেই আমরা চাকসুর পক্ষ থেকে তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত প্রশাসন ও চাকসুর সমঝোতায় ঢাকা-কেন্দ্রিক একটি ট্রেনের ব্যবস্থা করা গেছে। ট্রেনের পাশাপাশি রংপুর, খুলনা ও ময়মনসিংহ—এই তিন জেলা-কেন্দ্রিক বাসের ব্যবস্থাও করতে পেরেছি। এসব ব্যবস্থায় যে খরচ হবে, আপাতত তা চাকসু বহন করবে, যার পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ টাকা। নির্বাচন শেষে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পুরো খরচ আদায়ের চেষ্টা করা হবে।’

সোহানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস দূরপাল্লায় যেতে পারবে না। তবে চাকসুর উদ্যোগে যেসব গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে, সেগুলোর ভাড়া সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চাকসুর এ সদস্য জানান,, ‘শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে ১৯টি বাস ও একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়। উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হলেও তিনি রেলওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আর্থিক সহায়তাও দিতে রাজি হননি। সর্বশেষ চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন— ভোট দেওয়া নাগরিক অধিকার। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কেন দেবে? শেষ পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের দুটি বগি ভাড়া করতে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে যাতায়াতের জন্য বাস দেওয়া হচ্ছে। ১৭ বছর পর ভোটাধিকারের সুযোগ পেয়েও আমরা ভোট দিতে পারছি না। অনেকের আর্থিক সমস্যা, আবার অনেকেই বাসের টিকিট পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা।’

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ময়মনসিংহ-২ আসনের ভোটার কাজী সোহেল বলেন, ‘১৭ বছর পর দেশে ভোট হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা শিক্ষার্থীরাই যদি ভোট দিতে না পারি, তাহলে নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে কীভাবে? কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যদি বাসের ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তা সম্ভব হবে না কেন?’

চাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপাতত প্রশাসনের কেউ ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থাকায় গেট বন্ধ রেখে কোনো সমাধান আসছিল না। এতে প্রশাসনের ক্ষতির চেয়ে শিক্ষার্থীরাই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছিল। সে কারণেই তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ভাড়া সমন্বয় নিয়ে প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের জবাবদিহিতা পরে আদায় করা হবে বলে জানিয়েছে চাকসু।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনায় ছিলাম না। তবে যতটুকু শুনেছি, তারা যে দাবি করেছে, তা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। হয়তো বিষয়টি তারা নিজেরাও অনুধাবন করেছে বলেই গেট খুলে দিয়েছে—এটা আমার ধারণা। এর বাইরে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা সমঝোতার বিষয়ে আমার জানা নেই।’

আরও পড়ুন

×