মেলেনি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পিআইসির কাজে গতি নেই
ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল হাওরের ৫ নম্বর প্রকল্পে মাটি ফেলার কাজ চলছে। ছবিটি গত শুক্রবার তোলা সমকাল
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত ও নির্মাণকাজে মন্থর গতি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এখনও বরাদ্দের বিপরীতে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিটি বাঁধের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। তবে অর্থাভাবে পিআইসিগুলো তাদের কাজ এগিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। কোনো কোনো পিআইসি টাকা ধার-কর্জ করে এনে প্রকল্পের কাজ করাচ্ছেন। দ্রুত দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে গত রোববার জেলার উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায়ও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলায় চলতি অর্থবছরে ১২৩ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত ও নির্মাণকাজের জন্য ৯৩টি পিআইসি গঠন করা হয়। এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার টাকা। অন্যদিকে ধর্মপাশা উপজেলায় চলতি অর্থবছরে ৫৮ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত ও নির্মাণকাজের জন্য ৪১টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় আট কোটি ৮০ লাখ টাকা।
কাজের শুরুতে সংশ্লিষ্ট পিআইসিদের প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু কাজ চলমান অবস্থায় আরও দুটি এবং কাজ শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত বিল পরিশোধের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় কিস্তির টাকাই পরিশোধ করছে না পাউবো কর্তৃপক্ষ। ফলে অনেক পিআইসি ধারদেনা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরের ৭২ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি বাবুল মিয়া বলেন, বরাদ্দের টাকা না পাওয়ায় তাদের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। ধারদেনা করে কাজ চালাতে হচ্ছে।
একই হাওরের ৭৪ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, অর্থাভাবে দুদিন ধরে তাদের পিআইসির কাজ বন্ধ রয়েছে। বরাদ্দের টাকা দ্রুত হাতে না পেলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে তারা বিপাকে পড়ে যাবেন।
ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল হাওরের ৮ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি শাহীন খান বলেন, প্রথম কিস্তির তিন লাখ ১৯ হাজার ৭২৫ টাকা পেয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ রয়েছে। ইতোমধ্যে যে কাজ করেছেন, তাতে ১০ লাখ টাকার ওপরে খরচ হয়েছে– যা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মধ্যনগর উপজেলার গুরমার হাওরের ৩৩ নম্বর প্রকল্পের ফুল মিয়া বলেন, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পাওয়ায় সুদে টাকা ধার এনে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত বরাদ্দের টাকা পেলে উপকার হবে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত রোববার জেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী সেখানে জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছেন।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেতে পারে পিআইসিগুলো। টাকা পেলে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ আরও বেগবান হবে।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি পাউবো ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে পিআইসিগুলোর টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
- বিষয় :
- মাটি
