ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কারসাজি করে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কারসাজি করে ৩৩ লাখ টাকা  আত্মসাতের অভিযোগ
×

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কারসাজি করে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের দুটি অডিট মেমো, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি এসেছে সমকালের হাতে। 
শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের অডিট মেমো ১০ অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ ও ২০১৫ অনুসারে রেজিস্ট্রার পদটি তৃতীয় গ্রেডভুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামেও পদটি তৃতীয় গ্রেডভুক্ত। কিন্তু অর্গানোগ্রাম সংশোধন ছাড়াই দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন-ভাতা নিয়েছেন। 

২০১৪ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩১ জুন পর্যন্ত বেতন নেওয়ায় ১২ লাখ ২৭ হাজার ৯৮০ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং এই অর্থ ফেরতযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেড উন্নীতকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুজিবুর 
রহমান নিজেই। অডিট মেমো ১১-তে পিএইচডি শিক্ষা ছুটি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষা ছুটির চুক্তিপত্র ও বিধি অনুযায়ী শর্ত পূরণ না করে চাকরিতে যোগদান এবং ছুটিকালীন বেতন-ভাতা ফেরত না দেওয়ায় ২০ লাখ ১৪ হাজার ১৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে।  
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। ১০৫তম বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুজিবুর রহমান বলেন, তিনি কোনো ধরনের প্রভাব খাটিয়ে বা অবৈধভাবে বেতন নেননি। তাঁর দাবি, সরকারের কোষাগার থেকে ইচ্ছামতো কেউ বেতন নিতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আপগ্রেডেশন আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষই তাঁকে পদোন্নতি দিয়েছে। নিজের পদোন্নতির কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি ছিলাম কিনা, সেটা আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন।’
বর্তমান রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সমকালকে জানান, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে আইনি পদক্ষেপের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সব পদক্ষেপ নিয়েছি। এখানে কোনো প্রকার আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অবকাশ নেই।’

আরও পড়ুন

×