ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শুধু একবার দেশে ফিরতে চান মাধবপুরের আকলিমা

শুধু একবার দেশে ফিরতে চান মাধবপুরের আকলিমা
×

আকলিমা খাতুন

 মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাসিন্দা এক গৃহবধূ বর্তমানে সৌদি আরবপ্রবাসী। সুখের স্বপ্ন সত্য করার আশা নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমানোর পর যেন নরকের বাসিন্দা হয়ে গেছেন তিনি।
অসহনীয় নির্যাতন এখন সঙ্গী শুধু আকলিমা খাতুন নামের সেই ৩২ বছর বয়সী নারীর। তিনি উপজেলার চৌমুনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

সম্প্রতি আকলিমার তথ্য জানতে পেরে এর সত্যতা ও বিস্তারিত অনুসন্ধানে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান সমকাল প্রতিনিধি। সেখানে শুনতে পান জীবনযাপনের গল্প। আকলিমার পরিবারের সদস্যরা জানান, আর্থিক অনটনে পড়ে ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমান আকলিমা। প্রথম কিছুদিন ভালো কাটলেও এর পরই শুরু হয় নির্মম বাস্তবতার। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় প্রতিদিনই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েই এসব তথ্য তাদের জানিয়েছেন আকলিমা। এমন পরিস্থিতিতে আকলিমার একটাই চাওয়া, দেশে ফিরতে চান তিনি। 

পরিবারের বরাত দিয়ে সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী আকলিমার সঙ্গে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় সমকাল প্রতিনিধির। এ সময় ভুক্তভোগী আকলিমা খাতুন জানান, গত এক মাস ধরে তাঁকে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিক মতো খাবার, চিকিৎসা কিংবা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমাকে যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’ যে এজেন্সির মাধ্যমে তাঁকে পাঠানো হয়েছে, তারা কোনো খোঁজখবর রাখছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বনানীতে অবস্থিত আবির ব্রাদার্স নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এবং স্থানীয় হরিনখোলা গ্রামের জহির মিয়া নামে এক দালালের সহযোগিতায় তাঁকে রিয়াদ পাঠানো হয়। এ সময় দালাল বিপুল পরিমাণ গত এক মাস ধরে তাঁকে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিক মতো খাবার, চিকিৎসা কিংবা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।টাকা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই দালাল তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে দেশে ফেরত আনার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আকলিমা খাতুন প্রথমে রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে বর্তমানে তিনি সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে রয়েছেন। 
ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, ‘অভাবের কারণে দালালের কথায় বিশ্বাস করে স্ত্রীকে সৌদি আরব পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন স্ত্রী মহাবিপদে আছে! সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ, এই শিশুদের দিক তাকিয়ে তাদের মাকে যেন ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।’

এ বিষয়ে জানতে আবির ব্রাদার্সে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ভালো না লাগার কারণে সে দেশে আসতে চাচ্ছে। এতে আমার কোনো দোষ নেই। যদি কিছু হয়ে থাকে, সেটা এজেন্সির দোষ। এম্বাসির লোকদেরই তার খোঁজ রাখা উচিত।’
এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড-এর সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তারা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
 

আরও পড়ুন

×