ছাত্রাবাস নির্মাণে ভিটি বালু ব্যবহারে ক্ষোভ
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ১০০ শয্যার ছাত্রাবাস নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভবনটির পলেস্তারার কাজে নির্ধারিত বিশেষ গ্রেডের বালুর পরিবর্তে ভিটি বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণকাজে নানা অনিয়মের বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে এলে গত বুধবার কাজ বন্ধ রাখা হয়।
জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে আট কোটি ৪২ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪৫ টাকা ব্যয়ে পাঁচ তলা বিশিষ্ট ওই ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ পায় ঢাকার মেসার্স মিরন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের গত বছরের ২৫ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজটি ওই বছরের ১ জুলাই শুরু হয়ে একই বছরের ২১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে ভবনটির চার তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চম তলার ছাদ ঢালাইর প্রস্তুতি চলমান। গত বুধবার শ্রমিকরা ভবনের পলেস্তারার কাজে ভিটি বালু ব্যবহার করায় কলেজ কর্তৃপক্ষের চাপে কাজ বন্ধ করে দেয় সুনামগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্ধারিত গ্রেডের বালু এনে কাজ শুরুর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার আবারও ভিটি বালু দিয়ে পলেস্তারার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, কলেজের পুরাতন ভবনের উত্তরদিকে ভিটি বালুর বিশাল স্তূপ। সেখান থেকে দুজন শ্রমিক বস্তায় করে ভিটি বালু ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে নিচতলায় দুই বস্তা বালু ফেলে দেওয়া হয়। ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পলেস্তারার কাজ করছিলেন শ্রমিকরা।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কৃষ্ণ কান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু ছাদ ঢালাইর দিন আমাদের লোক তদারকিতে থাকে। গত পরশু ভিটি বালু দিয়ে প্লাস্টারের (পলেস্তারা) কাজ করা হচ্ছিল। ফলে আমরা কাজটি বন্ধ করিয়ে দেই।’
ক্ষোভ জানিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও কলেজর সাবেক শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অবকাঠামোতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. সবুজ মিয়া বলেন, উপযুক্ত বালু না থাকায় অন্য সাইট থেকে বালু নিয়ে গতকাল পলেস্তারার কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু বালু কম পড়ায় দুয়েক বস্তা ভিটি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। বিকেলেই উপযুক্ত গ্রেডের বালু সাইটে নিয়ে আসা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. খাজা মাঈনউদ্দিন বলেন, ঠিকাদার শিডিউল বহির্ভূত বালু দিয়ে কাজ করতে চেয়েছিল। তখন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিডিউলে উল্লিখিত বালু দিয়ে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- বালুদস্যু
