ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আবাসস্থল ও খাদ্য সংকটে বনছাড়া বন্যপ্রাণী

আবাসস্থল ও খাদ্য সংকটে বনছাড়া বন্যপ্রাণী
×

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের বনাঞ্চলে পশু-পাখির খাদ্য ও নিরাপদ আবাসস্থলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। এতে চলে আসা প্রাণীকুলের জীবন কখনও কখনও হুমকির মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন গত এক বছরে অজগর, লজ্জাবতী বানরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৬৭টি প্রাণী লোকালয় থেকে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই তথ্য বলছে বন্যপ্রাণীর খাদ্য সংকট কোন মাত্রায় পৌঁছেছে। 

জানা যায়, বন বিভাগের সহায়ক হিসেবে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত লোকালয় থেকে ৬৭টি প্রাণী উদ্ধার করেছে। সেগুলোকে উদ্ধারকারী সংগঠনটির পরিচালকরা পরে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে দিয়েছে।
শ্রীমঙ্গল তথা জেলার বিভিন্ন লোকালয় থেকে উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে ২৩টি অজগর সাপ, পদ্মগোখরা, পিটভাইপারসহ ১২টি বিভিন্ন জাতের সাপ, লজ্জাবতী বানর ১০টি, গন্ধগোকুল ৪টি ও শঙ্খ চিল তিনটি। এছাড়া জংলি পেঁচা, বনবিড়াল, নীলকণ্ঠ, লক্ষ্মীপেঁচা, ভুবন চিল, ভোঁদরসহ অন্যান্য প্রজাতির বন্যপশু ও পাখি রয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, বনাঞ্চলে পশু-পাখির খাবার সংকট ও গাছপালা কমে যাওয়ায় বসবাসের জন্য নিরাপদ না থাকায় বন থেকে পশু-পাখি লোকালয়ে চলে আসছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলের উঁচাপুল নামক স্থানে মজিদ মঞ্জিলের সিলিংয়ের মধ্যে একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ আশ্রয় নেওয়ার সন্ধান পান তারা। এতে বসতবাড়ি ও প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর পেয়ে তিনি সাপটিকে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্র জানায়, দিন দিন বনাঞ্চলের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে পশুপাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থল হারাচ্ছে। অন্যদিকে লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বসবাস করা অজগর, বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী ছড়া ও নিকটবর্তী চা বাগানে খাদ্যের সন্ধানে যেতে পারে। তখন চা শ্রমিকসহ স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়।
একইভাবে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ায় সেখানে বসবাস করা সাপসহ অন্যান্য প্রাণী ঘরের পাশের ঝোপঝাড়ে বসবাস করছে। কখনও কখনও খাদ্যের টানে হাঁস-মুরগি খেতে ঘরে প্রবেশ করে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশের লোকালয়ে বসবাস করা সচেতন মানুষের অনেকে জানান লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক যাতায়াত করায় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বসবাস প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিলেজ ফরেস্ট ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে শেয়াল, কাঠবিড়ালিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নিরাপদ আবাসস্থল হারাচ্ছে ও খাদ্য সংকটে পড়ছে। 

আরও পড়ুন

×