ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এসপির গাড়ি আটকিয়ে মব সৃষ্টি, কারাগারে বাসচালক

এসপির গাড়ি আটকিয়ে মব সৃষ্টি, কারাগারে বাসচালক
×

বাসচালক হাফিজুর রহমান

হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ২২:১৫

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি নওগাঁর পত্নীতলা থেকে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। পথে পাঁচবিবিতে তাঁর মাইক্রোবাসে ধাক্কা দেয় ঢাকার এস এ পরিবহনের একটি বাস। বিষয়টি নিয়ে এসপির গাড়িচালকের সঙ্গে বাসচালকের তর্কবিতর্ক হয়। বাসচালক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলে পুলিশ সুপার নিজের পরিচয় দিয়ে তাঁকে শান্ত করতে চেষ্টা করেন। এতে শান্ত না হয়ে উল্টো পুলিশ সুপার পরিচয় পেয়ে আরও ক্ষিপ্ত হন বাসচালক।

পরবর্তী ১০ কিলোমিটার সাইড না দিয়ে হিলিতে পৌঁছে এসপির মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন। পরে মাইক্রোবাস থেকে চালককে বের করে মারধর এবং এসপিকে লাঞ্ছিত করেন। খবর পেয়ে হাকিমপুর থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করেন এবং বাসচালককে থানা হেফাজতে নেন। বিষয়টি জেনে পরিবহন শ্রমিকরা হিলি চারমাথা মোড়ে আড়াআড়িভাবে পাঁচটি বাস দাঁড় করিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে দুই ঘণ্টাব্যাপী তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এরপর পরিবহন শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে থানায় গিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় থানা পুলিশ বাস শ্রমিক নেতাদের প্রকৃত ঘটনার ফুটেজ দেখালে তারা শান্ত হন। পরে থানা পুলিশ বাসচালককে সড়ক ও পরিবহন আইনে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তারকৃত বাসচালকের নাম হাফিজুর রহমান। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের বাসিন্দা।

হিলি বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাওসার রহমান জানান, পুরোপুরি ঘটনাটি না জেনে শ্রমিকরা শুধু ড্রাইভারের কথায় এ কাজ করেছে। তিনিও ভুল বুঝেছিলেন। এসপির মাইক্রোবাসে ধাক্কা দেওয়া থেকে শুরু করে ড্রাইভারের সব কার্যকলাপ এসপির ফোনে ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। থানায় তিনিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দেখতে পান ঘটনার জন্য প্রকৃতপক্ষে বাসচালক দায়ী। তাঁর পুরোপুরি দোষ রয়েছে। তারপরও বাসের চালককে তারা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, হিলি চারমাথা মোড়ে এসপি স্যারের গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারকে মারধর শুরু করে এবং স্যারকে গালাগাল করে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাসচালককে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। পরে শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানায় এসে হট্টগোল শুরু করে। শ্রমিক সংগঠনের নেতা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকের উপস্থিতিতে এসপি বাসচালকের কর্মকাণ্ডের ভিডিও দেখালে তারা শান্ত হন। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে ওই বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা  করে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই বাসচালক খারাপ আচরণ করে আসছিলেন। তিনি তাঁকে বারবার শান্ত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাসচালক হিলি চারমাথায় এসে মব সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হলে পরিবহন শ্রমিকদের দিয়ে সেখানেও মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×