ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদের আনন্দ নেই জেলে পরিবারে

ঈদের আনন্দ নেই জেলে পরিবারে
×

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদকে সামনে রেখে চারদিকে কেনাকাটার ব্যস্ততা, বাজারে উৎসবের আমেজ। এদিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মাতীরের জেলেদের নেই সেই আনন্দের ছোঁয়া। নদীর ঘাটে সারি সারি নৌকা নোঙর করে আছে। জেলেরা বসে আছেন নিরুপায় হয়ে। মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞায় অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তারা। 

জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ মার্চ থেকে পদ্মাসহ দেশের প্রধান ছয়টি নদী অঞ্চলে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফ এলাকা থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। 

গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নড়িয়ার সুরেশ্বর ঘাট, কাঁচিকাটা, নওয়াপাড়া, ঘড়িষার ও চরভাগা এলাকায় পদ্মার তীরে সারি সারি নৌকা বাঁধা। জাল শুকিয়ে রাখা হয়েছে ঘাটে। মাছ ধরতে না পেরে অনেক জেলে বসে অলস সময় পার করছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দিনমজুরির কাজ করছেন। সবার জন্য কাজও মিলছে না। 
স্কুলপড়ুয়া ছেলে শাওনকে সঙ্গে নিয়ে নৌকা মেরামতের কাজ করছিলেন নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকার জেলে বাদল মিয়া। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। প্রতিদিন নদীতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা মাছ ধরে তা বিক্রি করে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করতেন। সেই আয় দিয়েই চলত তাঁর সংসার। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন নদীতে জাল ফেলার সুযোগ নেই। বাদল মিয়া বলেন, মাছ বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন তিনি। এখন আয়ের পথই বন্ধ। সরকার যে চাল দিয়েছে, তা দিয়ে সংসার চালানো খুব কঠিন। ঈদের প্রস্তুতির কথা জানতে চাইলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘গরিবের কী আর ঈদ আছে?’

সুরেশ্বর, কাঁচিকাটা ও ঘড়িষার এলাকার জেলে লতিফ খান, ইদ্রিস বাকাউল, মো. জামিল, মো. কাউসার ও আক্কেল মুন্সির কণ্ঠেও হতাশার সুর। তারা জানালেন, ঈদ সামনে এলেও তাদের ঘরে উৎসবের কোনো প্রস্তুতি নেই। তারা বলেন, ঈদ তাদের জন্য বছরের আর পাঁচটা দিনের মতোই। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, ঠিকমতো সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। আয় না থাকায় পরিবার নিয়ে কষ্টে আছেন তারা। 

নড়িয়ার কাঁচিকাটা এলাকার জেলে আবুল হাশেম বলেন, সরকার যে চাল দেয়, তা দিয়ে কি আর সংসার চলে? ঈদের সময়েও স্ত্রী-সন্তানদের কিছু দিতে পারছেন না তিনি। পরিবারকে কীভাবে খাওয়াবেন এটাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা। 
সরকারি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জেলেদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি। জেলেরা জানান, আগে যে ডিজেল ১১০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। 

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন দুই মাসে (মার্চ ও এপ্রিল) জেলায় ১৫ হাজার ৪৬৫টি জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি করে কয়েক ধাপে ১৬০ কেজি চাল দেওয়া হবে। তবে জেলায় কার্ডধারী জেলের সংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি। 
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের সরকারি 
সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য সরকারিভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের মাঝে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

আরও পড়ুন

×