ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘সর্বহারা’ আতঙ্ক, সপরিবারে হত্যার হুমকি ব্যবসায়ী ও শিক্ষকদের

‘সর্বহারা’ আতঙ্ক, সপরিবারে হত্যার হুমকি ব্যবসায়ী ও শিক্ষকদের
×

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মোবাইল ফোনে ‘সর্বহারা পার্টি’র পরিচয় দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির ঘটনা বেড়েছে। গত ১০ দিনে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর থেকে অন্তত ১০ জনের কাছে কল করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে অপহরণ ও সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি গ্রামীণফোন নম্বর (০১৬০২-৩৮৭৭৯৩) থেকে এ কলগুলো করা হয়েছে। ৩ মার্চ বিকেলে ফোন আসে ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের আইসিটি প্রদর্শক মোস্তাক আহমেদের কাছে। তাঁকে বলা হয়, ‘তোর তো ভালো অবস্থা, আমাদের এক লাখ টাকা দিতে হবে।’ মোস্তাক আহমেদ পাল্টা ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললে অপরপ্রান্ত থেকে কটূক্তি করে ফোন কেটে দেওয়া হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি কসমেটিকস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে দুই লাখ টাকা এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদপাড়া এলাকার মুদি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। শফিকুল ইসলাম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁর স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি রেলগেটের রবিউল ইসলামকেও একইভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
২৪ ফেব্রুয়ারি কাটাবাড়ী গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের কাছে ফোন করে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমিনুল ইসলাম জানান, ‘সর্বহারা পার্টি টাকার ওপর চলে’ বলে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। একই গ্রামের মাহবুব আলম টনিকেও ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি কলেজ শিক্ষক ইমরান পারভেজকে ফোন করে জানানো হয়, তাঁকে অপহরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রক্ষা পেতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন এক ‘রোগীর’ ৬০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। শিক্ষক অপারগতা জানালে তাঁকে ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়। 
একইভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির শিকার হয়েছেন পৌরসভার গড় ইসলামপুরের সাজ্জাদ হোসেন, গৌরীপাড়ার তোফাজ্জল মিয়া এবং আলাদিপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের বাদশা হোসেন। প্রত্যেকের কাছেই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, চাঁদা দাবি করার পর নম্বরটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফোনদাতারা কৌশলে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এমনভাবে কথা বলছেন, যাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

ফুলবাড়ী দোকান ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম আনসারী বলেন, ‘অনেকে আমার কাছে এসে এই হুমকির বিষয়ে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি।’ 
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি। প্রশাসন যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ সমকালকে জানান, ‘অভিযুক্ত নম্বরটি ভোলার চরফ্যাশন এলাকার এক নারীর নামে নিবন্ধিত, তবে বর্তমান লোকেশন দেখাচ্ছে ঢাকার আজিমপুর। আমাদের কাছে কয়েকটি লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ এসেছে। নম্বরটি বর্তমানে বন্ধ থাকলেও আমরা অপরাধীকে শনাক্ত করতে কাজ করছি।’ পুলিশের এই কর্মকর্তা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে এ ধরনের কল এলে দ্রুত থানায় অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×