ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জমানো টাকায় ঈদের ভোজ, ৪০ গরু জবাই

জমানো টাকায় ঈদের ভোজ, ৪০ গরু জবাই
×

ঈশ্বরদী সাঁড়াগোপালপুর স্কুলপাড়ায় মাংস সমিতির উদ্যোগে গরু জবাই সমকাল

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিদিন মাত্র ১০ টাকা সঞ্চয়। মাস শেষে ৩০০ আর বছর শেষে ৩৬০০ টাকা। সামান্য এই সঞ্চয়ই ঈদের আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর গ্রামে। ১০ বছর ধরে চলচে এই ‘গোশত সমিতি’। এবার ঈদুল ফিতরে গ্রামটিতে জবাই করা হয়েছে অন্তত ৪০টি বড় সাইজের ষাঁড়। দিনমজুর থেকে শুরু করে অবস্থাসম্পন্ন সবাই এক কাতারে শামিল হয়ে ভাগ করে নিচ্ছেন ঈদের খুশি।

এক গ্রামেই ২৫টির বেশি সমিতি
সাঁড়াগোপালপুর গ্রামে বর্তমানে প্রায় ২৮টি ‘গোশত সমিতি’ সক্রিয় রয়েছে। এসব সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ৯০০-এর বেশি। প্রতিটি সমিতিতে ২৫ থেকে ৫০ জন করে সদস্য রয়েছেন। সারা বছর ধরে জমানো টাকা দিয়ে কেনা হয় ৪ থেকে ৬ মণ ওজনের হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু করে বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় চলছে গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির মহোৎসব।
সমিতির সদস্যরা জানান, বাজারে মাংসের দাম চড়া হওয়ায় একবারে বেশি টাকা দিয়ে মাংস কেনা অনেকের জন্যই কষ্টকর। তাই স্থানীয়রা বুদ্ধি করে এই সঞ্চয় পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। প্রতিদিন ১০ টাকা করে জমিয়ে বছর শেষে একেকজন সদস্য প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি করে টাটকা ও নির্ভেজাল গরুর মাংস ভাগ পাচ্ছেন। এতে বাজারের তুলনায় কম দামেও মাংস মিলছে, আবার এককালীন বড় অঙ্কের টাকার চাপও থাকছে না।

ধনী-দরিদ্রের সম্প্রীতির বন্ধন
সাঁড়াগোপালপুর স্কুলপাড়া, ফরাজীপাড়া, বাঘইল মন্নবীপাড়া, মধ্যপাড়াসহ প্রতিটি এলাকায় এখন সাজ সাজ রব। বাঘইল মন্নবীপাড়ার উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন রিপন বলেন, ‘আমাদের সমিতিতে ধনী-গরিব সবাই সদস্য। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। সম্প্রীতির এই বন্ধন আমাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।’ আরেক উদ্যোক্তা হাসান চৌধুরী জানান, গত ৯ বছর ধরে তিনি এই প্রক্রিয়ায় মাংস সংগ্রহ করছেন। এতে টাটকা মাংস পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ইয়াছিন আলী প্রামাণিক বলেন, ‘এই গোশত সমিতির মাধ্যমে সব বয়সী মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ দেখা যায়, তা সত্যিই অনুকরণীয়।’ স্থানীয় বাসিন্দা তানজিরুল আলম মিন্টো মনে করেন, একসঙ্গে হাট থেকে গরু কেনা এবং সবাই মিলে মাংস ভাগাভাগি করার মাঝে যে সামাজিক ঐক্য তৈরি হয়, তা-ই এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
ঈদের মূল বারতাই হলো ভাগাভাগি ও ভ্রাতৃত্ব। ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের এই ‘গোশত সমিতি’ সেই বারতাকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে চলেছে বছরের পর বছর।
 

আরও পড়ুন

×