তবুও বিষণ্ণ তাদের ঈদ
কুড়িগ্রামের সরকারি শিশু পরিবার কেন্দ্রের শিশুরা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ | ১৮:৪০
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। পরিবার-স্বজনদের স্নেহ, ভালোবাসা, মিলনমেলায় ঈদের পূর্ণতা। তবে সব শিশুর জীবনে সেই আনন্দ সমানভাবে ধরা দেয় না। কুড়িগ্রামের সরকারি শিশু পরিবার (বালক) কেন্দ্রে আশ্রিত এতিম ও স্বজনহারা শিশুদের কাছে ঈদের অর্থ তাই ভিন্ন মাত্রার।
জেলা শহরের এ কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৬০ জন শিশু-কিশোর বেড়ে উঠছে। তাদের কেউ হারিয়েছে বাবা, কেউবা মা-বাবা দুজনকেই। অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া এসব শিশুদের জন্য ঈদের আনন্দ চার দেয়ালের ভেতরেই সীমাবদ্ধ।
ঈদের দিন সকালে কেন্দ্রজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি করতে সরকারি উদ্যোগে নতুন জামা-কাপড় ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবুও থেকে যায় এক অমোচনীয় শূন্যতা মা-বাবার স্নেহের অভাব।
যখন অন্য শিশুরা নতুন পোশাক পরে বাবা-মায়ের হাত ধরে ঈদের নামাজে যায়, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে, তখন এসব শিশুদের নেই মায়ের স্নেহমাখা ছোঁয়া, নেই বাবার হাত ধরে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ।

কেন্দ্রটিতে ১২ বছর ধরে বসবাসরত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বিপুল ইসলাম বলে, ‘আমরা পাঁচ ভাইবোন। বড় তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা-মা কেউ নেই। ছোট ভাই আর আমি এখানে থাকি। ঈদে নতুন কাপড় পাই, ভালো খাবারও খাই। কিন্তু সবাই যখন পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যায়, তখন খুব মনে পড়ে। এখানে স্যাররা আমাদের সন্তানের মতোই দেখাশোনা করেন।’
আরেক শিক্ষার্থী রানা মিয়া বলেন, ‘ঈদে আমাদের নতুন শার্ট-প্যান্ট দেওয়া হয়েছে। আমরা এখানে ভালোই থাকি। স্যার-ম্যাডামরা বাবা-মায়ের মতো যত্ন নেন। এটাই এখন আমাদের পরিবার।’
কুড়িগ্রাম সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, শিশুদের ঈদ আনন্দময় করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তাদের জন্য বিশেষ খাবার, বিনোদনসহ নানা আয়োজন রাখা হয়। আমরা সবাইকে নিজের সন্তানের মতোই দেখি।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেড়ে ওঠা অনেকেই এখন উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে, পুলিশসহ বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা যখন ফিরে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করে, তখন আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক মনে হয়।
