ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি সাবাড়, হুমকিতে কৃষি
রাজারহাটে নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইটভাটায় দেদার যাচ্ছে কৃষিজমির মাটি সমকাল
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ইটভাটায় কাঁচামাল জোগাতে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটার মচ্ছব শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে এই মাটি উত্তোলন করছে। এতে একদিকে তৈরি ইট নগরায়ণের চাহিদা মেটালেও, অন্যদিকে স্থায়ীভাবে নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা, যা দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জমির ওই মাটি কর্তন বা খনন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে থামছে না এই অবৈধ কার্যক্রম। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দেদার চলছে মাটি কাটার কাজ। বিশেষ করে চাকিরপশার ইউনিয়নের তালুক নাককাটি, গর্বের দোলা, জয়ডোবের দোলা এবং উমর মজিদ ইউনিয়নের কিশামত মেঘাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধে ফসলি জমি খনন করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দিন-রাত ভেকু মেশিন (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে ট্রলিতে করে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। অবাধে মাটি কাটার এই প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে অচিরেই এই অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩’-এর ১৩ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে: যদি কোনো ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদযোগ্য বা কর্ষণীয় জমির উপরিস্তর মাটি কর্তন করেন, তবে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
মাটি কাটার বিষয়ে এমএনআই ব্রিকসের ম্যানেজার টিটু মিয়া দায়সারাভাবে বলেন, ‘ভাটার মালিক আমাকে যা অর্ডার করেন, আমি শুধু তা পালন করি।’ তবে ইটভাটা সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়ম মেনেই তারা মাটি সংগ্রহ করছেন। তারা প্রয়োজনে সরকারি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় মাটি সংগ্রহের দাবি জানান। কুড়িগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রেজাউল করিম জানান, ‘ সুনির্দিষ্ট সংবাদ পেলে প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেব।’
- বিষয় :
- মাটি
