ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আনন্দভ্রমণে এসে জাফলংয়ে শিশুর মৃত্যু

আনন্দভ্রমণে এসে জাফলংয়ে শিশুর মৃত্যু
×

ফাইল ছবি

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ২১:১৪

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে আনন্দভ্রমণে এসে প্রাণ গেছে জিহাদ (১১) নামের এক শিশুর। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জিরো পয়েন্টে পানিতে নামার সময় পা পিছলে গভীর অংশে তলিয়ে যায় সে। দ্রুত উদ্ধার করে তার শরীর থেকে পানি বের করার চেষ্টা করেন স্বজনরা। নেওয়া হয় জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। তবু বাঁচানো যায়নি শিশুটিকে।

জিহাদ নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার পুটিয়া গ্রামের জুয়েল মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, দাদি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে বাসে করে জাফলং বেড়াতে এসেছিল সে। জিরো পয়েন্টের যে জায়গায় জিহাদ পড়ে যায়, সেখানকার পানির গভীরতা তিন-চার ফুটের মতো। কিন্তু হঠাৎ পা পিছলে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে শিশুটি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তাৎক্ষণিক জিহাদকে উদ্ধার করে স্বজনরা ভেতর থেকে পানি বের করার চেষ্টা করেন। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিজিবির সহায়তায় তাকে দ্রুত পাঠানো হয় জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারপরও মন মানেনি জিহাদের স্বজন ও সহযাত্রীদের। তারা শিশুটিকে নিয়ে যান সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও চিকিৎসকও একই মতামত দেন। ফলে বেড়াতে এসে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে জিহাদকে।

গত এক দশকে শিশু জিহাদসহ ৪২ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে। প্রতিবছরই জাফলং জিরো পয়েন্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় বিজিবি ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতা জারির পরও মৃত্যুরোধ করা যাচ্ছে না। গত বছরের ১১ জুন চট্টগ্রাম থেকে বন্ধুদের সঙ্গে জাফলংয়ে বেড়াতে গিয়ে ডুবে মারা যায় বায়েজিদ থানার আমতৈল শহীদ পাড়ার জামিল আহমদের ছেলে মাহি (১৫)। ২০২৩ সালের ৬ জুলাই নিখোঁজ হয়েছিল ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আল ওয়াজ আরশ। দুদিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০২২ সালের ১২ জুলাই ডুবে মারা যায় নরসিংদী আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলাম।

জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক তপন তালুকদার জানিয়েছেন, শিশুটি পানিতে ডুবে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি। বার বার মাইকিং করে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হলেও অনেক পর্যটক তা মানেন না। পানিতে নামার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সবাই নামেন। জিরো পয়েন্ট এলাকার অনেক জায়গায়ই এখন পানি কম। শিশুটি যে স্থানে ডুবেছিল সেখানেও পানি কম ছিল। শিশুটির লাশ নিয়ে স্বজন ও সহযাত্রীরা বিকেলেই বাড়ির উদ্দেশে সিলেট ছেড়েছেন। 

আরও পড়ুন

×