ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চোরের সঙ্গে কথোপকথন, পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

‘চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হইলে সহযোগিতা করবেন’

চোরের সঙ্গে কথোপকথন, পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত
×

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ২১:১৫

বাঞ্ছারামপুরে গরু চুরির ঘটনায় আটক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের অভিযোগে এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, আইয়ুবপুর ইউনিয়নের দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার একটি গরু গত বৃহস্পতিবার রাতে চুরি হয়। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে সন্দেহভাজন চোর আলাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করেন। এ সময় আলাল মিয়া চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

আলাল মিয়ার বাড়ি বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার জগন্নাথপুরে হলেও তিনি পাশের আইয়ুবপুর ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামে বসবাস করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় তিনি পেশাদার চোর হিসেবে পরিচিত।

গরুটি উদ্ধারের সময় স্থানীয়রা আলালের ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন জব্দ করেন। পরে ফোনটি ঘেঁটে তারা বাঞ্ছারামপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের বিভিন্ন আলামত পান। ইমু অ্যাপে ভয়েস মেসেজ, চ্যাট ও কললিস্টে কথোপকথনের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গরু চুরি করতে যাওয়ার আগে আলাল মিয়া ফোনে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে জানাতেন এবং কোনো সমস্যা হলে সহযোগিতা করার অনুরোধ করতেন। উদ্ধার কল রেকর্ডে আটক আলাল মিয়া এএসআই মোহাম্মদ মাসুদকে বলেন, ‘চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হইলে সহযোগিতা করবেন।’

এ বিষয়ে আলাল মিয়ার ভাষ্য, তিনি এক সময় মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সময় এএসআই মাসুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে টাকা দিতেন এবং বিনিময়ে সহযোগিতা পেতেন। সর্বশেষ গরু চুরির সময়ও ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও জানান আলাল।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি, এটা সত্য। তবে তাকে (আলালকে) না চিনেই ইমুতে কথা বলেছি। তার সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’

বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, দশানি গ্রামের গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, অভিযোগ পেয়ে একজন এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁকে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×